জাতি এখন সবচেয়ে বড় সংকটে আছে: ডা. শফিকুর রহমান

জাতি এখন সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই সংকট থেকে জাতিকে উত্তরণ করতেই হবে। দেশের মেধাবী মানুষের জ্ঞান ও দক্ষতা মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বানও জানান তিনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘রোড টু সিরাহ’ জাতীয় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর পুরস্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজে অনেক মেধাবী মানুষ থাকলেও তাদের একটি অংশ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মেধাকে ব্যবহার করছেন। আল্লাহর দেওয়া মেধা ও যোগ্যতা মানবতা, সৃষ্টি ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো উচিত।
তিনি বলেন, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার পথ হলো মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করা। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার আদর্শ অনুসরণ করতে হবে।
মহানবী (সা.)-এর শৈশব ও কৈশোরের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে জামায়াতের আমির বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার চরিত্র, ন্যায়বোধ, দায়িত্বশীলতা ও মানুষের প্রতি সম্মান ছিল অনুসরণীয়। কাবা পুনর্নির্মাণের সময় হাজরে আসওয়াদ স্থাপন নিয়ে বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে তরুণ মুহাম্মদ (সা.) বিচক্ষণতার সঙ্গে তার সমাধান করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.) জন্মের আগেই পিতাকে এবং ছয় বছর বয়সে মাকে হারান। আট বছর বয়সে দাদাকেও হারান। জীবনে একের পর এক প্রতিকূলতা এলেও তিনি মানুষের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে উঠেছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একজন ব্যবসায়ী, দার্শনিক, চিন্তাবিদ, সমন্বয়ক কিংবা বিচারকের দায়িত্ব—জীবনের যে ক্ষেত্রেই আদর্শের প্রয়োজন হোক, মহানবী (সা.)-এর জীবন সেখানে অনুসরণীয়।
সিরাত প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিযোগীরা মহানবী (সা.)-এর জীবন সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছে। শুধু পুরস্কার পাওয়ার জন্য নয়, সঠিক পথের সন্ধান পাওয়ার লক্ষ্যেই এই চর্চা করা উচিত।
হেদায়েতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, হেদায়েত অর্থ সঠিক পথের দিশা পাওয়া। আল্লাহর কাছে হেদায়েত চাওয়া মানে সঠিক পথ পাওয়ার জন্য দোয়া করা।