সেভান লেক ও মনাস্টারির সৌন্দর্যে মুগ্ধ ভ্রমণপ্রেমীরা

আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরাভানের কোলাহল পেরিয়ে পাহাড়, নীল জলরাশি আর প্রাচীন স্থাপত্যের খোঁজে এক রোমাঞ্চকর দিন অতিবাহিত করলেন একদল ইতিহাস প্রেমী পর্যটক। পর্যটন মৌসুমে ককেশাস অঞ্চলের প্রাচীন ইতিহাস ও ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটগুলো দেখার জন্য পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে আর্মেনিয়া।

সেভান লেক ও প্রাচীন মনেস্ট্রির হাতছানি:
ভ্রমণের দ্বিতীয় দিনে পর্যটকদের প্রথম গন্তব্য ছিল আর্মেনিয়ার বৃহত্তম লেক ‘সেভান’। স্বচ্ছ নীল জলরাশির এই হ্রদটি পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এক অপার্থিব সৌন্দর্য ধারণ করে আছে। পাহাড়ের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলেই দেখা মেলে প্রায় দুই হাজার বছরের প্রাচীন স্থাপত্য ‘সেভানাভাঙ্ক মনেস্ট্রি’ (Sevanavank Monastery)। পাথরের তৈরি এই প্রাচীন উপাসনালয়গুলো আর্মেনিয়ান স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন, যা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা ভিড় জমান।

দিলিজান ও গোশাভাঙ্ক: ছবির মতো এক শহর:
মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে পর্যটকরা পৌঁছান ইউনেস্কো স্বীকৃত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ‘ওল্ড দিলিজান’-এ। অ্যান্টিক সাজসজ্জা আর ছবির মতো সুন্দর এই পুরনো শহরটি পর্যটকদের মুহূর্তেই মুগ্ধ করে। শেষ বিকেলে তাঁরা পরিদর্শন করেন ‘গোশাভাঙ্ক মনেস্ট্রি’ (Goshavanq Monastery)। সাজানো-গোছানো এই পাহাড়ি এলাকাটি ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা ভ্রমণের আনন্দকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

হাগপাত মনেস্ট্রি: ইতিহাস প্রেমীদের স্বর্গ:
ভ্রমণকারীদের মতে, দিনভর ক্লান্তি দূর করে দিয়েছিল সর্বশেষ গন্তব্য ‘হাগপাত মনেস্ট্রি’ (Haghpat Monastery)। পাহাড়ের সবুজে ঘেরা প্রথাগত আর্মেনিয়ান গ্রাম্য পরিবেশে অবস্থিত এই স্থাপত্যগুলো ইতিহাস প্রেমীদের কাছে স্বর্গীয় অনুভূতির মতো। প্রাচীন ও আধ্যাত্মিক আবহে ঘেরা এই এলাকাটি পর্যটন মানচিত্রে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

ইয়েরাভানের সান্ধ্যকালীন আমেজ:
সারাদিনের ভ্রমণ শেষে সন্ধ্যার অপরাহ্নে পর্যটকরা ফিরে আসেন ইয়েরাভানের প্রাণকেন্দ্র ‘ক্যাসকেড কমপ্লেক্স’-এ (Cascade Complex)। সেখানকার তাজা ফলের ফ্রেশ জুস এবং আর্মেনিয়ান ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নেওয়ার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে এক স্মরণীয় দিনের। পরবর্তী গন্তব্য ও নতুন শহর দেখার রোমাঞ্চ নিয়ে পর্যটকরা তাঁদের আর্মেনিয়া সফর অব্যাহত রেখেছেন।
লেখা:- আবির হাসান
দৈএনকে/জে, আ