নাছির উদ্দিনের হুঁশিয়ারি: আসিফ মাহমুদের দুর্নীতি দেশের মাটিতেই বিচার হবে

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন বলেছেন, আসিফ মাহমুদের হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে। তিনি জানিয়েছেন, দেশের মানুষ দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে (দুদক) এই দুর্নীতির বিষয়ে যথাযথ তদন্ত করবে।
আজ সোমবার, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সমবেত হয়ে দেওয়া বক্তব্যে নাছির উদ্দিন বলেন, ছাত্রদলের এই কর্মসূচি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তাদের লক্ষ্য তিনটি মূল ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের নজর আনা।
নাছির উদ্দিন আসিফ মাহমুদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “জুলাই–আগস্টে আপনি নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ নিয়ে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেছেন। এই বিষয়টি দেশের মানুষ জানে।”
তিনি নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন তোলেন, “নতুন বাংলাদেশে আমরা কখনোই পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে জামায়াত-শিবির-রাজাকারদের ক্ষমতায় আনার চেষ্টা মেনে নেব না। নির্বাচন কমিশন কেন জামায়াতের নামে পোস্টাল ব্যালট পেপারের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি?”
নাছির উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে দুইটি রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই–আগস্টের নেতা ও ছাত্রসংস্থা উপদেষ্টা হয়ে জনগণের অর্থের দুর্নীতি করেছেন। বাংলাদেশের এই দুর্নীতি এখন ওপেন সিক্রেট।
ছাত্রদলের তিনটি প্রধান দাবি ও উদ্বেগের বিষয় হলো—
পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত: নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাত ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্ব: বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের ফলে কমিশন হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।
শাবি ছাত্র সংসদ নির্বাচন: বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রভাবের কারণে নির্বাচন কমিশন বিতর্কিত ও নজিরবিহীন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগের বিষয়।
নাছির উদ্দিনের এই বক্তব্যে ছাত্রদলের দৃষ্টিকোণ থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক স্বাধিকার ও দুর্নীতি দমন নিশ্চিত করার তাগিদ প্রতিফলিত হয়েছে।