বাকুর ওল্ড সিটি: প্রাচ্যের প্যারিসে ইতিহাসের ছোঁয়া

আজারবাইজানের রাজধানী বাকু, যা ‘প্রাচ্যের প্যারিস’ নামেও পরিচিত, পর্যটকদের কাছে তার অনন্য স্থাপত্যশৈলী এবং ঐতিহাসিক নিদর্শনের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি একদল পর্যটকের ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে এই শহরের পুরনো অংশের মনোমুগ্ধকর চিত্র।
ইতিহাসের খোঁজে ইছারি শেহের (Icheri Seher):
কাস্পিয়ান সাগরের তীরে অবস্থিত ওল্ড সিটি বা ইছারি শেহের বাকুর সবচেয়ে প্রাচীন এবং ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত একটি এলাকা। সরু গলি, পাথুরে রাস্তা এবং ঐতিহ্যবাহী কার্পেটের দোকানে পরিপূর্ণ এই শহরে প্রবেশ করলে মনে হবে যেনো টাইম মেশিনে চড়ে মধ্যযুগীয় ইতিহাসে ফিরে যাওয়া যায়। ইউরোপীয় ধাঁচের সোভিয়েত স্থাপত্যের ছোঁয়া থাকা সত্ত্বেও এই শহরের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। পরিচ্ছন্ন রাস্তা, সুন্দর সাজানো পার্ক এবং চমৎকার রেস্তোরাঁ এই শহরকে দিয়েছে প্যারিসের মতোই এক ভিন্ন মাত্রা।

প্রধান আকর্ষণ ও স্থাপত্যের নিদর্শন:
ওল্ড বাকুর মূল আকর্ষণগুলো পর্যটকদের মুগ্ধ করে:
- মেইডেন টাওয়ার (Maiden Tower): দ্বাদশ শতাব্দীতে নির্মিত বাকুর এই আইকনিক ল্যান্ডমার্কটি শহরের ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী। এর স্থাপত্যশৈলী দেখতে প্রতিদিন ভিড় করেন শত শত পর্যটক।

- শিরভানশাহ প্রাসাদ (Palace of the Shirvanshahs): পঞ্চদশ শতাব্দীর এই প্রাসাদ কমপ্লেক্সটি মধ্যযুগীয় আজারবাইজানীয় স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন, যা তৎকালীন শাসকদের জীবনযাত্রা ও আভিজাত্যের কথা মনে করিয়ে দেয়।

- প্রাচীন দেয়াল: পুরো ওল্ড সিটিটি দ্বাদশ শতাব্দীর মজবুত পাথরের দেয়াল দিয়ে ঘেরা, যা একসময় শহরকে বহিরাক্রমণ থেকে রক্ষা করত।

- নিজামী স্ট্রিট (Nizami Street): কেনাকাটা, ভালো খাবার এবং শহরের স্পন্দন উপভোগ করার জন্য নিজামী স্ট্রিট স্থানীয় ও পর্যটকদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়। এখানে রয়েছে অগণিত উচ্চমানের দোকান, থিয়েটার এবং ক্যাফে।

বাকুর এই ওল্ড সিটি ভ্রমণ যে কোনো পর্যটকের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে পারে।
লেখা :- আবির হাসান
দৈএনকে/জে, আ