আজারবাইজানের গাবালা: ক্যাবল কারে স্বপ্নময় পর্বত যাত্রা

পাহাড় প্রেমীদের জন্য ক্যাবল কারে চড়ে পর্বত দর্শনের অভিজ্ঞতা সবসময়ই এক বিশেষ শিহরণের নাম। সম্প্রতি রাজধানী বাকু থেকে ২২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গাবালা মাউন্টেন বা তুফানদাগ (Tufandag) পর্বতশৃঙ্গ ভ্রমণ করে এলেন এক পর্যটক দল। কুবা, গাবালা কিংবা শাহ্ দাগ—আজারবাইজানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রকৃত রূপ দেখতে পর্যটকদের প্রধান গন্তব্য এখন এই অঞ্চলগুলো।
পথেরই মায়ায় মুগ্ধ পর্যটক:
গাবালা ভ্রমণের মূল আকর্ষণ কেবল গন্তব্য নয়, বরং বাকু থেকে সেখানে পৌঁছানোর দীর্ঘ পথটিই যেন এক বিস্ময়। পর্যটকদের মতে, গন্তব্যের চেয়েও এই দীর্ঘ ড্রাইভের রাস্তার সৌন্দর্য অনেক বেশি আকর্ষণীয়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তার দুই ধারের দৃশ্য লিখে প্রকাশ করা অসম্ভব। পথে পথে আজারি গ্রামগুলোর শান্ত ও নিরিবিলি জীবনব্যবস্থা পর্যটকদের মনে করিয়ে দেয় সাবেক সোভিয়েত রাশিয়ার চিরায়ত ঐতিহ্যের কথা। শহুরে কোলাহলমুক্ত এই গ্রামগুলোতে আজও ট্রিপিকাল সোভিয়েত ছোঁয়া বিদ্যমান।

স্বাদ ও প্রকৃতির মেলবন্ধন:
গন্তব্যে যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্টপেজে আজারি ঐতিহ্যের ছোঁয়া নিতে ভুলছেন না ভ্রমণপিপাসুরা। কফি এবং স্থানীয় আজারি খাবারের স্বাদ নিতে নিতে শুভ্র তুষারে ঢাকা রাস্তার সৌন্দর্য উপভোগ করা এই ভ্রমণের অন্যতম বিশেষত্ব। গন্তব্যের যতো নিকটে যাওয়া যায়, চারপাশের দৃশ্য ততই তুষারে সাদা হয়ে ধরা দেয়।

ক্যাবল কারে রোমাঞ্চকর জার্নি:
পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত তুফানদাগ (Tufandag) স্কি রিসোর্ট থেকে টিকিট নিয়ে শুরু হয় সেই বহু প্রতীক্ষিত ক্যাবল কার জার্নি। নিস্তব্ধ পাহাড়ের ওপর দিয়ে ক্যাবল কারে ভেসে চলার সময় হিমশীতল সৌন্দর্য পর্যটকদের এক অন্য জগতে নিয়ে যায়। ওপর থেকে নিচে স্কি করতে থাকা মানুষদের দৃশ্য এবং পাহাড়ের চূড়ার মনভোলানো সৌন্দর্য এই পুরো জার্নিকে সার্থক করে তোলে।

ভ্রমণপিপাসুদের অভিমত:
আজারবাইজান ভ্রমণের যতোগুলো সুন্দর স্মৃতি রয়েছে, তার মধ্যে গাবালার এই ক্যাবল কার ভ্রমণ নিঃসন্দেহে তালিকার শীর্ষে থাকবে। যারা প্রকৃতির নিস্তব্ধতা আর তুষারের শুভ্রতা ভালোবাসেন, তাদের জন্য গাবালা মাউন্টেন ২০২৬ সালের অন্যতম সেরা ভ্রমণ গন্তব্য।
লেখা :- আবির হাসান
দৈএনকে/জে, আ