সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • তফসিল নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ ইসির ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক, উদ্বেগ জানাল ইএসডিও ‘স্বৈরাচার হেরেছে’ স্লোগানে মুখর দিল্লি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে উচ্ছ্বাস রোববার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নতুন পে-স্কেল চূড়ান্তের পথে, আগস্টেই গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি তথ্যভিত্তিক ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ওপর জোর দিলেন তথ্যমন্ত্রী দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি, একদিনে প্রাণ গেল একজনের ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভিসা সমস্যা সমাধানের আহ্বান শাপলা চত্বর মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ২৭ জুলাই হাম-উপসর্গে বাড়ছে মৃত্যু, সর্বশেষ ৬ শিশুর সবাই ঢাকা বিভাগের
  • হাংকো, ফিনল্যান্ড: শান্ত সমুদ্রতীর এবং স্মৃতিচিহ্নের শহর

    হাংকো, ফিনল্যান্ড: শান্ত সমুদ্রতীর এবং স্মৃতিচিহ্নের শহর
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সমুদ্রের নীল জলরেখা যখন সূর্যের হালকা উষ্ণ আলোর সঙ্গে মিশে যায়, আর বাতাসের নরম সুর বালুকাবেলায় খেলতে থাকে—সেই শান্ত শহরটির নাম হাংকো। ফিনল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে, বাল্টিক সাগরের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই ছোট্ট শহর যেন প্রকৃতির কোলে লুকানো এক নিভৃত উপাখ্যান। রাজধানী হেলসিংকি থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে, হাংকো আমাকে বহু বছর পর আবারই স্বাগত জানিয়েছে—একটি পূর্ণচক্রের মতো।

    আমি প্রথম এসেছিলাম ২০০৬ সালে। তখন হাংকো ছিল সমুদ্রপথে আমার প্রথম জানালা; এখান থেকেই জাহাজে করে পাড়ি দিয়েছিলাম জার্মানির দিকে। সেই স্মৃতি আজও অমলিন। বহু বছর পর ফেরার সময় মনে হল, শহরটি এখনো আগের মতো নিঃশব্দ, গম্ভীর, কিন্তু হৃদয় ভরা আতিথ্যের আভা নিয়ে।

    হাংকো উপদ্বীপের মতো সাগরের দিকে প্রসারিত, আর অন্যদিকে সবুজ বন, ফুলে-ফলে সেজে ওঠা রঙিন রাস্তা এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা। তিনদিকেই বাল্টিক সাগর বেষ্টিত শহরটি যেন স্বপ্নের মতো। ফিনল্যান্ডের গ্রীষ্মকালে এখানে দিনের আলো দীর্ঘ ও উজ্জ্বল, আর শহরের প্রতিটি কোণ যেন ফুলের সমারোহে রঙিন।

    উপকূলের স্পিডবোট ঘাটে ভিড় থাকে ফিনল্যান্ডের ধনীদের দামি স্পিডবোট দিয়ে, আবার বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বোটপ্রেমীরাও আসে। কেউ সূর্যাস্ত দেখার জন্য নোঙর ফেলে, কেউ অল্প কয়েকদিনের জন্য স্থায়ী হয়।

    হাংকোর ইতিহাসও সমৃদ্ধ। ১৮৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত শহরটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কৌশলগত গুরুত্বের কারণে সাময়িকভাবে সোভিয়েত দখলে চলে যায় (১৯৪০–৪১)। আজও শহরের নানা স্থানে সেই সময়ের স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে—রণাঙ্গন, জাদুঘর, ট্যাঙ্ক মিউজিয়াম।

    পুরনো কাঠের বাড়িগুলো এবং স্পা পার্কের ভিলা-গুলোতে রাশিয়ান ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ান স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণ চোখে পড়ে। শহরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো হাংকো বিচ—ফিনল্যান্ডের দীর্ঘতম বালুকাবেলার মধ্যে অন্যতম। গ্রীষ্মে এখানে সূর্যস্নান, সাঁতার, ওয়াটার স্পোর্টস এবং সমুদ্রের আনন্দ উৎসবের মতো।

    শহরের সর্বোচ্চ স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা হাংকো ওয়াটার টাওয়ার থেকে পুরো শহর, সমুদ্র এবং নিকটবর্তী দ্বীপগুলো দেখা যায়। সূর্যাস্তের সময় এই দৃশ্য যেন সময়কে থামিয়ে দেয়।

    হাংকো দ্বিভাষিক শহর—ফিনিশ ও সুইডিশ ভাষা পাশাপাশি প্রচলিত। মানুষজন ভদ্র, অতিথিপরায়ণ এবং পরিশীলিত। গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত হয় বিখ্যাত হাংকো রেগাট্টা—পালতোলা নৌকার প্রতিযোগিতা এবং সামাজিক উৎসব, যেখানে সারাদেশ ও বিদেশ থেকে মানুষ আসে।

    হাংকো শুধু শহর নয়, এটি এক জীবন্ত স্মৃতি। শহরের রূপ বদলালেও আত্মা রয়ে গেছে আগের মতো। ফিরে এসে আমি আবার খুঁজে পেয়েছি সেই বন্দর, সেই সমুদ্রের গন্ধ, সেই সূর্যাস্তের রং। হাংকো যেন ভ্রমণপ্রেমীর নীরব আশ্রয়, যেখানে প্রত্যাবর্তন মানে শুধু ভ্রমণ নয়, নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ