দুদকের রাডারে জিয়াউল আহসান: ১২০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন, যা দুদক-এর আবেদন মোতাবেক কার্যকর হয়। দুদকের উপপরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম আদালতে জানান, আদাবর থানার একটি মামলায় ইতিমধ্যেই জিয়াউল আহসান গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
গত বছরের ২৩ জানুয়ারি দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া এই কর্মকর্তা নিজের নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া গাইডলাইন অব ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজ্যাকশন-২০১৮ এবং ২০২০ সালের সার্কুলার লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করেছেন।
দুদক আরও জানায়, জিয়াউল আহসান আটটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতায় এই অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেছেন।
মামলায় বলা হয়েছে, উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও জিয়াউল আহসান ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং দুদক আইন, দণ্ডবিধি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।