শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • রোববার নারায়ণগঞ্জের ৫ এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না মার্কিন হামলাকে শান্তিচুক্তির লঙ্ঘন বলছে ইরান আইসিসিকে ১৪ পাতার চিঠিতে কী লিখেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল? ফেসবুক পোস্টে রহস্যময় বার্তা দিলেন মাহফুজ আলম এনআইডি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা, ১৫ বছর পর নবায়ন বাধ্যতামূলক! হরমুজে ট্যাংকারে হামলার পর নতুন করে বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭০৮ ২০২৮ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া-চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য বন্ধু: শফিকুর রহমান দ্বিপাক্ষিক সফরে দেশ ও জনগণের স্বার্থই ছিল অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী
  • ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ১৭ আসামির সম্পৃক্ততার চিত্র প্রকাশ

    ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ১৭ আসামির সম্পৃক্ততার চিত্র প্রকাশ
    ছবি- সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্তের পর ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এই তথ্য মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

    ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, দীর্ঘ ও গুরত্বপূর্ণ তদন্তের পর তারা যথাযথ প্রমাণ ও তথ্যের ভিত্তিতে মামলায় ১৭জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের বিস্তৃত পরিকল্পনা, সুনির্দিষ্ট ঘটনার ক্রম ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।

    তিনি আরও জানান, ইস্যুটি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয়েছে এবং যথাযথভাবে আদালতে অভিযোগপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হতে পারে। মামলার অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত অভিযোগ সংবলিত হয়েছে।

    এই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণাদি ছাড়াও হত্যাকাণ্ড তৈরির পেছনের পরিকল্পনা, সহযোগিতা ও ফ্যাসিলিটেটরের তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। ডিবি সূত্রে জানা যায়, তদন্তকারীরা বিভিন্ন স্তরে তথ্য সংগ্রহ করেছেন, যার ভিত্তিতেই আজ আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করা হয়েছে।

    এই ঘটনাটি দেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল এবং ন্যায়বিচারের দাবি সকল মহল থেকে উঠেছে। ডিবি কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে তীব্র গতি নিয়ে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

    তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী)। সরাসরি গুলি চালিয়েছেন ফয়সাল করিম এবং তাকে সহযোগিতা করেছেন আলমগীর হোসেন। এ তিনজন বর্তমানে ভারতে পালিয়ে আছেন।

    ফয়সাল করিমের ভগ্নিপতি মুক্তি মাহমুদ তাদের আশ্রয় ও অস্ত্র সংরক্ষণে সহায়তা করেন। পলাতক আসামিদের সীমান্ত পারাপারে সহযোগিতা করেন ফিলিপ স্নাল। এছাড়া নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সিবিয়ান দিও ও সঞ্জয় চিসিম হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে পালানোর জন্য সহায়তা প্রদান করেছেন।

    ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট পরিবর্তন ও অস্ত্র স্থানান্তরের কাজে জড়িত ছিলেন। তার মা হাসি বেগম ও বোন জেসমিন আক্তার আশ্রয় ও অস্ত্র সংরক্ষণে সহযোগিতা করেছেন। ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া পালিয়ে যাওয়ার খরচ বাবদ ৩০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠান। শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সংগ্রহ করে নরসিংদীর এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    তদন্তে আরও জানা গেছে, ফয়সালের বন্ধু মো. কবির মোটরসাইকেল সরবরাহ করেন এবং মারিয়া আক্তার লিমা হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ছিলেন। আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজুও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন।

    ডিবি জানায়, ভবিষ্যতে নতুন তথ্য ও প্রমাণ পেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, শরিফ ওসমান বিন হাদি নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করেছিলেন এবং সেই কারণে তাকে হত্যার শিকার হতে হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আরও পড়ুন