সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • তফসিল নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ ইসির ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক, উদ্বেগ জানাল ইএসডিও ‘স্বৈরাচার হেরেছে’ স্লোগানে মুখর দিল্লি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে উচ্ছ্বাস রোববার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নতুন পে-স্কেল চূড়ান্তের পথে, আগস্টেই গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি তথ্যভিত্তিক ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ওপর জোর দিলেন তথ্যমন্ত্রী দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি, একদিনে প্রাণ গেল একজনের ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভিসা সমস্যা সমাধানের আহ্বান শাপলা চত্বর মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ২৭ জুলাই হাম-উপসর্গে বাড়ছে মৃত্যু, সর্বশেষ ৬ শিশুর সবাই ঢাকা বিভাগের
  • উরুগুয়ের নীরব শহরে সময়ের ছোঁয়া

    উরুগুয়ের নীরব শহরে সময়ের ছোঁয়া
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    উরুগুয়ের মানচিত্রে ছোট্ট কিন্তু রহস্যময় একটি শহর—কোলোনিয়া দেল সাক্রামেন্তো। আধুনিক জীবনের কোলাহলকে পেছনে ফেলে এখানে প্রবেশ করলেই মনে হয় আপনি যেন শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাসের ভেতরে পা দিয়েছেন। ঢালু পাথরের রাস্তা, পর্তুগিজ আমলের খাটো ছাদ, কাঠের দরজা, ছোট জানালা—সবকিছুই অতীতের ছোঁয়া বহন করে।

    শহরের সবচেয়ে মায়াবী এবং ফটোগ্রাফিকাল রাস্তা হলো কালে দে লোস সুস্পিরোস। এটি শুধু একটি রাস্তাই নয়, বরং একটি অভিজ্ঞতা—যেখানে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয় প্রতিটি পাথর, প্রতিটি দেওয়াল নিজের গল্প বলছে।

    কালের সাক্ষী রাস্তা

    রাস্তার পাশে দাঁড়ানো চারশ থেকে পাঁচশ বছরের পুরনো ঘরগুলোতে এখনও পর্তুগিজ স্থাপত্যের ছোঁয়া স্পষ্ট। খাটো দেওয়াল, সংকীর্ণ কাঠের দরজা, মাটির টালি—সবকিছুই শতাব্দী পুরনো স্নেহে তৈরি। ইউনেস্কো ১৯৯৫ সালে কোলোনিয়ার এই অংশকে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করলেও, কালে দে লোস সুস্পিরোস প্রায় অক্ষত অবস্থায় আছে, যা রাস্তার সৌন্দর্যকে আরও গভীর করে তোলে।

    রাস্তার নামের পেছনে আছে নানা কাহিনি। কেউ বলে, এটি ছিল নাবিকদের নিঃশ্বাস ফেলার স্থান—‘suspiros’ শব্দের উৎপত্তি এখান থেকেই। আবার কেউ বলে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় বন্দিদের শেষ যাত্রাপথ ছিল এটি। কেউ কেউ কাহিনি মনে করে এক তরুণীর প্রেমিকের অপেক্ষা ও মৃত্যুর গল্প। সত্য বা মিথ্যা—যে কোনো কাহিনি রাস্তার রহস্যময়তার সৌন্দর্যকে আরও বৃদ্ধি করে।

    এল বুয়েন সাসপিরো: ইতিহাস ও স্বাদ

    রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এক অসাধারণ রেস্টুরেন্ট—এল বুয়েন সাসপিরো। এটি ১৭২০ সালের আগের একটি পর্তুগিজ বাড়িতে অবস্থিত। নিচু ছাদ, পাথরের দেওয়াল, কাঠের বিম—প্রত্যেকটি উপাদান পুরনো দিনের সাক্ষী।

    ভেতরে প্রবেশ করলেই মনে হয় আপনি ত্রিশ শতাব্দী পুরনো পর্তুগিজ পরিবারের রান্নাঘরে ঢুকে গিয়েছেন। রেস্টুরেন্টে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী পণ্য—আলফাখোর, হাতের তৈরি চিজ, আঙ্গুরের স্পিরিট, অলিভ অয়েল, স্থানীয় মধু, জ্যাম। দেওয়ালের ওপর হস্তলিখিত নোট, কালো কাঠের তাক এবং প্রাচীন ধাতব লণ্ঠন—সব মিলিয়ে এক অতীতের যাত্রা।

    কাসা পর্তুগিজ আনো ১৭২০—এই বোর্ডটিই বাড়িটির জন্ম এবং ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। প্রতিটি পাথর, প্রতিটি কাঠের বিম যেন সময়ের ধীর গতিতে চলা গল্প শুনায়, যা স্পর্শ করলে অনুভূতি আরও গভীর হয়।

    রাস্তার নীরবতা ও পরিবেশ

    কালে দে লোস সুস্পিরোসের প্রতিটি পাথর, প্রতিটি দেওয়ালই ইতিহাসের গল্প বলে। রাস্তার শেষমুখে পৌঁছে দেখা যায় রিয়ো দে লা প্লাতা নদীর নীলাভ জল। সন্ধ্যার আলো নদীর ওপর পড়ে মনে হয় যেন সোনালি আবরণ বিছানো হয়েছে। এখানে দাঁড়ালে বোঝা যায়, শতাব্দী আগে সেই জায়গায় নাবিকেরা কীভাবে নদীর দিকে তাকাত, বাতাসের শব্দ, জাহাজের নীলাভ ছায়া—সবকিছু আজও একই।

    এল বুয়েন সাসপিরো এবং কালে দে লোস সুস্পিরোস কেবল পর্যটকের জন্য নয়, এটি ভ্রমণের মাধ্যমে ইতিহাস, নীরবতা, রহস্য ও স্থায়ী সৌন্দর্যের অভিজ্ঞতা দেয়।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ