নতুন বছরে মুমিনের পরিকল্পনা কেমন হওয়া উচিত

সময়ই জীবন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্ধারিত আয়ু কমে। সময়কে কাজে লাগাতে হবে। সময়কে ধারণ না করলে গর্ভবতী হয় না কোনো প্রাণী। গাছ ও ফসলে আসে না ফুল ও ফল। ওমর ইবনুল আবদুল আজিজ (রহ.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই সময় তোমার ভেতর সক্রিয়। সুতরাং তুমি তাতে সক্রিয় থাকো।’ সময়ের হিসাব দিতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন মানুষ চারটি প্রশ্নের উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত সামনে যেতে পারবে না—১. সে তার জীবনকাল কোন কাজে ব্যয় করেছে ২. তার যৌবনকাল কোথায় ক্ষয় করেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৬)
তওবা করা
মানুষের জীবনে ভুল হতেই পারে। গুনাহ হওয়াটাও স্বাভাবিক। এ জন্য আল্লাহর কাছে সব সময় তওবা করতে হবে। নতুন বছরের শুরুতে তওবা করে নিন। আল্লাহ তওবাকারীকে ভালোবাসেন। (সুরা বাকারা, আয়াত : ২২২)।
গুনাহ ছেড়ে দেওয়া
আল্লাহকে পেতে হলে গুনাহ ছাড়তে হবে। গুনাহযুক্ত জীবনে ঈমানের স্বাদ পাওয়া যায় না। নতুন বছরের শুভক্ষণে গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) আয়েশা (রা.)-কে ছোট ছোট গুনাহ ছেড়ে দেওয়ারও আদেশ দেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস : ৫৩৫৬)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিরা নতুন বছরের আগমনে কিংবা নতুন মাসের শুরুতে এই দোয়া পড়তেন—বাংলা উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আদখিলহু আলাইনা বিল আমনি, ওয়াল ঈমানি, ওয়াস সালামাতি, ওয়াল ইসলামি, ওয়া রিজওয়ানিম মিনার রাহমানি, ওয়া জাওয়ারিম মিনাশ শায়তানি।’
বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ, আমাদের ঈমান ও ইসলামকে নিরাপদ করুন। আমাদের সুরক্ষা দিন। দয়াময় রহমানের কল্যাণ দান করুন। শয়তানের কুমন্ত্রণার মোকাবিলায় আমাদের সাহায্য করুন। (আল-মুজাম আল-আওসাত : ৬/২২১)
বিশেষ করে নতুন বছরের শুরুতে আল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক, ব্যক্তিগত অধ্যয়ন, রোজগার বৃদ্ধি, দান-সদকা, আদর্শ পরিবার গঠনের নানা কর্মসূচি, সেবামূলক কাজে যুক্ত হওয়া, ভ্রমণ, শরীরচর্চা, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, টেকনোলজি, বন্ধু তৈরি, মাতৃভূমির উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করুন।