শেখ হাসিনা-সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ আসামির বিচার শুরু ট্রাইব্যুনালে

র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিএফআই) গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক-বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দিয়েছেন।
আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল এই আদেশ দেন। অন্যান্য সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম ও শাইখ মাহদী। গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাইব্যুনাল প্রথমে সব আসামির আইনজীবীদের অব্যাহতি চাওয়ার আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করার নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তার আসামিদের একে একে অভিযোগ পড়ে শোনানো হচ্ছে, যা শেষ হলে সাক্ষ্যগ্রহণ ও সূচনা বক্তব্যের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
এদিন সকাল থেকে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিরাপত্তা চাদর বেঁধে রাখা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়। ঢাকার সেনানিবাস থেকে ১০ জন গ্রেপ্তার সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।
এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ সাতজন এখনও পলাতক। তারা হলেন: সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, র্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ, শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য সাবেক সেনা ও সরকারি কর্মকর্তারা।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আবেদন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের আইনজীবীরা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অব্যাহতির আবেদন করলেও তা খারিজ করা হয়।
এর আগে, ৩ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম এবং চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম টিএফআই সেলের বীভৎসতা তুলে ধরেন এবং ১৬ বছর পর নতুন বাংলাদেশ উদিত হওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
গ্রেপ্তার সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-১ একই সঙ্গে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং পলাতক আসামিদের হাজিরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।