হাদি হত্যা মামলার বিচার শেষ হবে ৯০ দিনের মধ্যে: আসিফ নজরুল

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যেই এই মামলার বিচার শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ড. আসিফ নজরুল এ তথ্য জানান। তিনি লেখেন, বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বিলম্ব সহ্য করা হবে না এবং আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
আইন উপদেষ্টা আরও জানান, মামলাটির তদন্ত কাজ গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জনগণের আস্থা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পুলিশ রিপোর্ট আসার পর সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার বিচার সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ভেরিফায়েড পেজ থেকে দেয়া এক পোস্টে এমনটা জানিয়েছেন তিনি।
পোস্টে আইন উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার হবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২ এর ১০ ধারা অনুযায়ী পুলিশ রিপোর্ট আসার পর সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করা হবে।’
জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তিনি।
ঘটনার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানা যায়, গুলি তার মাথার ডান দিক থেকে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে। একপর্যায়ে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়া হলে গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদির মৃত্যু হয়।
পরবর্তীতে মরদেহ দেশে আনা হলে গত শনিবার (২০ ডিসেম্বর) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের এই যোদ্ধার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন দুপুর আড়াটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো জনতার অংশগ্রহণে ওসমান হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিকের ইমামতিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাসহ তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নেন। পরবর্তীতে বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের এই যোদ্ধাকে।