হাদি হত্যার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মহারাষ্ট্রে

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ বর্তমানে ভারতের মহারাষ্ট্রে অবস্থান করছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, হত্যাচেষ্টার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ফয়সাল দেশ ছাড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামতও গায়েব করে।
পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া ফিলিপের দুই সহযোগীর তথ্য অনুযায়ী, ফয়সাল ও তার সহযোগী ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। শ্যুটার ফয়সালের ফোনের আইপি অ্যাড্রেস অনুযায়ী বুধবার তার অবস্থান মহারাষ্ট্রে ছিল এবং তিনি ভারতের রিলায়েন্স কোম্পানির সংযোগ ব্যবহার করে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
তদন্তে জানা গেছে, গত জুলাইয়ে দেশে ফিরে ফয়সাল, কবির, কামাল, রুবেল ও মাইনুদ্দিনরা এক কিলিং মিশন পরিচালনা করেন। তারা সবাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
কিলিং মিশনের পরিকল্পনা
৪ ডিসেম্বর রাত ৮টা ১৮ মিনিটে ফয়সাল ও সহযোগী কবির ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে পৌঁছান। ছয় মিনিটের বৈঠকটি মূলত হাদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির প্রথম ধাপ ছিল।
৯ ডিসেম্বর ফয়সাল আবারও কালচারাল সেন্টারে আসে, সঙ্গে ছিল আলমগীর। বৈঠকে নির্বাচনী প্রচারণার পরিকল্পনা আলোচিত হয়।
১২ ডিসেম্বর সেগুনবাগিচায় হাদির প্রচারণায় অংশ নেন ফয়সাল।
কিলিং মিশন বাস্তবায়নের জন্য নরসিংদী, সাভার, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় রেকি করে।
১১ ডিসেম্বর পশ্চিম আগারগাঁওয়ে বোনের বাসায় মিশনের প্রস্তুতি। হামলার দিন ভোরে উবারে করে হেমায়েতপুরের একটি রিসোর্টে যায়।
রিসোর্টের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার ভোর ৫টা ২২ মিনিটে ফয়সাল ও আলমগীরের গাড়ি গ্রিন জোন রিসোর্টে প্রবেশ করে, যেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল ফয়সালের বান্ধবী মারিয়া ও তার বোন। ফয়সাল বান্ধবীকে হাদির ভিডিও দেখিয়ে হত্যার পরিকল্পনা জানায় এবং ঘটনার পর যোগাযোগ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
পরে বান্ধবীকে উবারে করে বাড্ডায় নামিয়ে দেয়। বেলা ১১টা ৫ মিনিটে আগারগাঁও থেকে মোটরসাইকেলে বের হয়ে সরাসরি সেগুনবাগিচার প্রচারণায় অংশ নেয়।
সকাল পৌনে ১২টার দিকে প্রচারণা শেষে দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা মতিঝিলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ফয়সালরা পেছন থেকে অটোরিকশা অনুসরণ করে।
দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে ফয়সাল খুব কাছ থেকে দুটি গুলি ছোড়ে হাদিকে।