বিজয়ের ৫৪ বছরেও কি আমরা সত্যিই মুক্ত?

বিজয়ের ৫৪ বছর পেরিয়ে গেছে। লাল-সবুজ পতাকা উড়ছে, জাতীয় সংগীত বাজে, রাষ্ট্র স্বাধীন—তবু প্রশ্ন থেকেই যায়, আমরা কি সত্যিই মুক্ত? কলম হাতে নিলে এই প্রশ্নই সবচেয়ে বেশি ভারী হয়ে ওঠে। লিখতে চাই বিজয়ের কথা, গর্বের কথা; কিন্তু বাস্তবতার অন্ধকারে কলম বারবার থমকে যায়।
আজও আমাদের চোখের সামনে ক্ষুধার্ত শিশুরা ফুটপাতে রাত কাটায়। বৃদ্ধ বাবা-মা ঠাঁই পান বৃদ্ধাশ্রমে, অবহেলায়, নিঃসঙ্গতায়। যে শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর, তিনিই আজ সবচেয়ে বেশি অবমূল্যায়িত। আর সাধারণ মানুষ—সে যেন নিজের দেশেই নিরাপত্তাহীন।
যাঁরা এই দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতার উত্তরসূরিরাই আজ ক্ষমতার মোহে বিভক্ত। আদর্শের জায়গা দখল করেছে স্বার্থ, দেশপ্রেমের জায়গায় বসেছে হিংসা ও বিদ্বেষ। স্বাধীন দেশে আজও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়—এটি আমাদের জন্য গভীর লজ্জার। মানবিকতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা যেন ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।
এই বাস্তবতা আমাদের ব্যর্থতার আয়না। শুধু রাষ্ট্রের নয়, সমাজ হিসেবে আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতা। স্বাধীনতা মানে শুধু ভূখণ্ড নয়—স্বাধীনতা মানে ন্যায়বিচার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও মানবিক জীবন। সেই স্বাধীনতাই আজ সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত।
তবু সব অন্ধকারের মাঝেও বাঙালি বেঁচে থাকে আশায়। বিশ্বাস করি, একদিন এই বাংলায় ক্ষুধা নয়, মানবিকতা জিতবে; ক্ষমতার নয়, ন্যায়ের জয় হবে। সেই দিনের অপেক্ষায়, কলম থামলেও আশা থামে না। সত্যিকারের সুদিন আসবেই—এই বিশ্বাস নিয়েই পথচলা।
এস এম আওলাদ হোসেন
সাংবাদিক ও কলামিস্ট।