১৫ সেনা কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে হাজির, নিরাপত্তা জোরদার

আওয়ামী লীগের শাসনামলে টিএফআই-জেআইসি সেলে গুম-নির্যাতন ও ২৪ জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক তিন মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০:৪০ মিনিটে বাংলাদেশ জেল-প্রিজন ভ্যানের মাধ্যমে তাদের আদালতে আনা হয়। ট্রাইব্যুনাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কড়া নিরাপত্তা বজায় রেখেছে।
জেআইসি সেলে গুম-নির্যাতনের মামলায় পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে, যেখানে ১৩ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল-১ আদেশ দেবেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার তিন সেনা কর্মকর্তা হলেন: ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। বাকিরা পলাতক রয়েছেন।
এছাড়া র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ আরও ১০ সেনা কর্মকর্তা সাব-জেলে রয়েছেন। তাদের নাম: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন), কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের আরও এক মামলায় লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হবে।
আদালতের নিরাপত্তা হিসেবে হাইকোর্টের মূল ফটকে পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ট্রাইব্যুনাল ফটকের দুই পাশে বিজিবি, র্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশও কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। এপিবিএন ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে।