মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • উইন্ডোজ ১১ থেকেই চালান স্মার্টফোন, যেভাবে চালু করবেন ফোন লিংক পিছিয়ে গেল এইচএসসির ফল প্রকাশ, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ঢাকা-চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন এলিজা জামান আইজিপির বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের পর কী হবে, জানালেন তথ্য উপদেষ্টা শাড়ি বিতর্কে তিন মামলা, ‘সোলজার’ নিয়েও অনিশ্চয়তা—চাপে তানজিন তিশা পাঁচ কোম্পানির নামমাত্র নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা জ্বালানি, রেল ও অবকাঠামো খাতে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ কমনওয়েলথ মহাসচিবের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ লিবিয়ার পার্লামেন্ট স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
  • অপ্সরী: আবেগঘন ‘প্রেমের গল্প’

    অপ্সরী: আবেগঘন ‘প্রেমের গল্প’
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ‘প্রথম দেখায় প্রেম’ কথাটায় কোনো দিন বিশ্বাস করিনি। কারণ, মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্যে আমি কখনো অকৃষ্ট হই না। তার প্রেমে পড়ার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।

    নাম না হয় না–ই বলি, আমি তাকে কখনো দেখিনি, কারণ সে আমায় ছবি দেয়নি কারণ আমায় বিশ্বাস করেনা। আমি তার নাম দিয়েছিলাম অপ্সরী। আমি সব সময় একজন ধার্মিক মেয়ে চেয়েছিলাম, বলা চলে সে সেরকম। অনেক মানুষের ভিড়ে খুব যে একটা আলাদা, প্রথম দেখায় তা মনে হয়েছে। কারণ প্রোফাইল টা পর্দা টাইপের মেয়ে ভ্রমণ পিপাসু । কিন্তু একটা সময় খেয়াল করলাম, সবাই তার আচরণ, কাজ, কথায় মুগ্ধ। এ মুগ্ধতা আমাকে সেভাবে স্পর্শ করেনি; কারণ, দূরত্ব ছিল। মোয়েটার সাথে আমার ১০ দিন ফেসবুকে কথা হয়। আমি খুব একাকী থাকার চেষ্টা করতাম ছোটবেলা থেকেই কিন্তু মেয়েটা মিশুক প্রকৃতির ছিলো। 

    আমার মেয়ে বন্ধু বলতে কখনো তেমন কেউ ছিলোনা। কিন্তু তার স্বভাব মানুষের সাথে মেশা ভ্রমণ করা । আমাদের মধ্যে কোন মিল নেই কোন দিক দিয়েই। একদম ১৮০ ডিগ্রি ফেজ শিফট। আমি খুব বই পড়তে পছন্দ করি, উপন্যাস পড়ি নিজেকে নিজের বেস্ট বন্ধু বানিয়েছি। কিন্তু তার পছন্দ আমার মতো মানুষ না, প্রেমে বিশ্বাস না করা, বাড়ীর পাশে বিয়ে করা। মেয়েটার দিকে তাকালে আমার কেন যেন অনেক মায়া হয়, মনে হয় সমুদ্রের সকল ঢেউ আমায় ছুঁয়ে গেল অনুমতিহীন। আমি একাকী রাস্তায় অনেক হাটি এবং রুম বন্ধ করে মন খারাপ হলে বসে থাকি অন্ধকারে।

    এখন মেয়েটার সাথে আমার যোগাযোগ কম কারণ সে বিরক্ত বোধ করে৷ আমার কাছে ভালোবাসা মানে রেসপেক্ট তাঁকে এবং তার পরিবারকে করা, দায়িত্ববোধ কিন্তু তাঁর চোখে এগুলা কখনো পরেনা। মানুষকে আমার বুঝানোর ক্ষমতা খুব কম, হয়তো তাকে আমি আমার অনূভুতি বুঝাতে পারিনি, সে সময় নিয়েছে ২ মাস। 

    তারপর থেকে আমার মাঝে দুজন করে বাসকরে। বদ্ধ রুমে একা থাকলে মনে হয় আমার মাঝে একজন আছে। যদি একাকী হাঁটি তখনো মনে হয় আমার সাথে একজন হাঁটছে। আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম, কবরস্থানে গিয়েছিলাম, নদীর মাঝখানেও গিয়েছিলাম কিছুতেই নিজেকে শান্ত করতে পারছিনা। এখন একটু স্বাভাবিক যখন মানুষের ছোটখাটো উপকার করতে পারছি।

    আজ হঠাৎ তার সাথে কথা হলো, আমার কথা বলা তার পছন্দ না প্রত্যেকটি কথায় নাকি কিন্তু থাকে, এক কথা বার বার বলি, গুছিয়ে কথা বলতে পারিনা তাই সে আমার সাথে যোগাযোগ রাখবেনা। ছোট বেলা থেকে আমার স্বভাব নিজেকে জানার চেষ্টা করা। আমার মন চায় তার সাথে সব সময় কথা বলতে। তাকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিতে কিন্তু এগুলা তার পছন্দ না। সব কিছুই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি তার জন্য অনেক কিছু করতে চেয়েছি, ছবি আঁকিয়েছি, তার সেটাও পছন্দ হয়নি। সে বলতো একটা নিদিষ্ট সময় কথা বলতে কিন্তু আমি সারাদিন সারারাত তার অপেক্ষা করতাম।

    এখন আমার মনে সব সময় কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। মানুষ কি অন্যের জন্য পরিবর্তন হতে পারেনা? সময়ের সাথে সাথে হয়তো বেঁচে থাকার অনেক কারণ আমরা পেয়ে যায়। আমি হয়তো আর কারো প্রেমে পড়বোনা। কিন্তু তাঁকে পেলে আমার জীবনটা ধন্য হতো। আমার কি আর তাঁর সাথে যোগাযোগ করা ঠিক হবে?

    সে হয়তো জানেনা আমি তাকে চালতা ফুলের মতো ভালোবাসি চোখ বুজলে তাঁকেই স্বপ্ন দেখি। জানেন আজ কি স্বপ্ন দেখেছি। সে বিকেল বেলা যমুনা নদীতে চোখ বুজে ধ্যানের ভঙ্গিতে নৌকায় বসে আছে। বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম। চোখ মেলে চাইল, যেন ধ্যানভঙ্গ হলো। এর মধ্যে বৃষ্টি শুরু হলো। বৃষ্টি আমার ভীষণ পছন্দ। সে পড়েছিলো কালো শাড়ী এবং ফুল হাতা ব্লাউজ কপালে কালো টিপ। তার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি একটা সুবাস, বুক ভরে শ্বাস নিলাম। পরের ঘটনাটার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। আমার ওপর যেন শত শত পাপড়ি ঝরে পড়ল। চোখ মেলে দেখি, কোথাও কেউ নেই। আমি একা আর চারপাশে ঝরে পড়া তারার মতোশুভ্র চালতা ফুল। বুঝতে পারলাম, সে আমার জীবনের এক অপ্রকাশিত আশা।

    আমি কি আর কখনো তার সাথে যোগাযোগ করবো, নাকি দূর থেকেই ভালোবেসে যাবো। তুমি তো আমার অপ্সরী ছিলা। কেমনে তোমার থেকে দূরে থাকি। আমায় কি ভালোবাসা যায়না অপ্সরী। আমি তো শুধু তোমাকে ভালোবাসি। ভালোবাসা মানে তো দায়িত্ব বোধ এবং একে অপরের যত্ন নেয়া। হয়তো অনেক কিছু লিখতে পারতাম, থাকনা কিছু অপ্রাপ্তি। যদি তুমি আমায় ভালোবাসো তাহলে, আমি যে পরিমাণ তোমায় ভালোবাসি ততটাই আমাকে ভালোবেসো।

    “ভালো থেকো অপ্সরী।”

    লেখক: রিয়াদ


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ