সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট সংবিধানবিরোধী: হাইকোর্ট মেধা দিয়ে দেশ গড়তে হবে, বিদেশে গেলেও দেশের কথা ভাবতে হবে: ফরিদা খানম কারিগরি ত্রুটিতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট বন্ধ ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১,৫৬১ ‘আমাকে শুধু টাকা আয়ের মাধ্যম হিসেবে দেখেছে’, পরিবার নিয়ে পপির ক্ষোভ এআই মডেলের উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান অ্যানথ্রোপিক সিইওর আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ দুই মাসে বেনাপোলে সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ আমদানি সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: আইজিপি বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী শেভরন
  • উপজেলার সিএ চাকরিতে তিন মাসেই কোটিপতি!

    উপজেলার সিএ চাকরিতে তিন মাসেই কোটিপতি!
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    রাজনগর উপজেলা পরিষদের কাম-কম্পিউটার(সিএ)অনুপ দাশ। তার পৈত্রিক বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের সবুজবাগ আবাসিক এলাকায়। তিনি সবুজবাগে সুদৃশ্য নিদারুণ একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি তৈরি করেন।

    তিন মাসেই কোটিপতি বনে গেছেন রাজনগর উপজেলা পরিষদের সিএ অনুপ দাস। চেক জালিয়াতি ও প্রতারণা করে অতি অল্প সময়ে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে উপজেলা প্রশাসনে। তিনি রাজনগর উপজেলা পরিষদের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর। চেক জালিয়াতি ও ভ্যাট ট্যাক্সের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন। 

    মৌলভীবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক ইসরাইল হোসেনের পরিদর্শনে বিষয়টি ধরা পড়ে। এদিকে অল্প সময়ে এত বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিলেও বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে না আসায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন এতে আরও অনেকেই জড়িত আছেন এবং বিষয়টি সত্য কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। 

    সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, উপজেলার সাবেক সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর অনুপ দাস ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর রাজনগরে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। গত সেপ্টেম্বর মাসের ১৬ইং বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বড়লেখায় বদলি করা হয়। কিন্তু বদলি হওয়ার আগে তিনি ৪ মাসে ১ কোটি ৫১ লাখ ৫১ হাজার ৪৫৫ টাকা চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন। গত ২৮শে অক্টোবর রাজনগর উপজেলা পরিষদে পরিদর্শনে যান মৌলভীবাজার থেকে সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন।

    এসময় পরিষদের ক্যাশ বইয়ে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখলে অনুপ দাসের জালিয়াতি ধরা পড়ে। জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্তের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোসা. শাহিনা আক্তার বিষয়টি তদন্ত করেন। এতে দেখা যায়, অনুপ দাস উপজেলা হাট-বাজারের তহবিল থেকে ৮০ লাখ ৫১ হাজার ৪৫৫ টাকা, উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ৪০ লাখ টাকা ও উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে ৩১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

    এসব টাকার মধ্যে কিছু টাকা ব্যক্তি নামে নগদ উত্তোলন ও তার নিজের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদিকে এত অল্প সময়ে এত বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়া হলেও বিষয়টি কারও নজরে না আসায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। পরিষদের একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত চেকে কিছু খালি জায়গা রেখে ইউএনও’র সামনে চেক হাজির করতো সে।

    স্বাক্ষর হয়ে গেলে ওই চেকে টাকার পরিমাণের আগে আরও সংখ্যা বসিয়ে টাকার অঙ্ক বাড়িয়ে দিতো অনুপ দাস। রাজনগরে তার জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ার পর বড়লেখা উপজেলায়ও খোঁজ করা হয়। সেখানে একই কায়দায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে সে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মৌলভীবাজারের স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের তদন্তে বলা হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে সাঁট মুদ্রাক্ষরিক অনুপ দাসের মোবাইল ফোনে কল করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে জানতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল রবিবার(৩০শে নভেম্বর) দূর্নীতিবাজ অনুপ দাসকে বরখাস্ত করেন বলে নিশ্চিত করেন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন