সেন্টমার্টিনে রাতযাপনের সুযোগ, মানতে হবে কঠোর নির্দেশনা

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ১০ মাস পর রাতযাপনের সুযোগ মিলেছে। কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল।
১ ডিসেম্বর থেকে দৈনিক দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবে না। কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে সকাল ৭টায় জাহাজ ছাড়বে এবং পরদিন বেলা ৩টায় কক্সবাজারে ফেরত আসবে। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকরা এই ভ্রমণ করতে পারবেন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের বিশেষ প্রস্তুতি সভায় পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশ ও ট্যুরিজম বোর্ডের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। চারটি জাহাজ কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্লাস্টিকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে জাহাজে ওঠার সময় পর্যটকদের বিনামূল্যে অ্যালুমিনিয়ামের পানির বোতল দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, পর্যটকদের ১২টি নির্দেশনা মানতে হবে। এর মধ্যে প্রধান হলো, টিকিট অবশ্যই স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে কিনতে হবে। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড থাকতে হবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পর্যটকরা রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ করা বা বারবিকিউ পার্টি করতে পারবে না। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা বিক্রয়, সামুদ্রিক প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সৈকতে মোটরচালিত যানবাহন চলাচলও বন্ধ থাকবে।
নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না। একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক, ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার না করার জন্য পর্যটকদের সতর্ক করা হয়েছে। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পর্যটকরা এবারের মৌসুমে দ্বীপের সৌন্দর্য ভোগ করতে পারবেন, তবে ভ্রমণকালে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলা বাধ্যতামূলক।