দ্বীপকন্যা চর কুকরি মুকরি: যেখানে প্রকৃতি মেলে ধরে অপার সৌন্দর্য

চর কুকরি মুকরি হলো বাংলাদেশের ভোলা জেলার সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মোহনায় অবস্থিত একটি সুন্দর দ্বীপ এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। এটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য "দ্বীপকন্যা" নামেও পরিচিত এবং অনেকে এটিকে বাংলাদেশের "দ্বিতীয় সুন্দরবন" হিসেবে গণ্য করেন।
প্রধান আকর্ষণ
বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য: এই দ্বীপে রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, যেখানে চিত্রা হরিণ, বানর, উদবিড়াল, শিয়াল, বন্য মহিষ, বন-বিড়াল এবং বন মোরগসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর দেখা মেলে।
অতিথি পাখি: শীতকালে এখানে বিপুল পরিমাণে অতিথি পাখির আগমন ঘটে, যা পাখিপ্রেমীদের জন্য একটি দারুণ আকর্ষণ।
ম্যানগ্রোভ বন: ভোলার দক্ষিণ উপকূলের এই ম্যানগ্রোভ বাগান সুন্দরবনের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে।
তারুয়া সমুদ্র সৈকত: চর কুকরি মুকরি থেকে প্রায় ১ ঘণ্টার স্পিডবোটের দূরত্বে রয়েছে তারুয়া সমুদ্র সৈকত, যার একপাশে বঙ্গোপসাগর আর অন্যপাশে বিশাল চারণভূমি ও ম্যানগ্রোভ বন।
ক্যাম্পিং: নিরিবিলি ও পরিচ্ছন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝে ক্যাম্পিং করার জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান। শীতকাল ক্যাম্পিং-এর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
যাওয়ার উপায়
নদী পথে চর কুকরি মুকরিতে যাওয়াই সবচেয়ে সহজ উপায়।
ঢাকা থেকে: ঢাকার সদরঘাট থেকে ভোলাগামী লঞ্চে (যেমন তাসরিফ ৩/৪, কর্ণফুলী ১২/১৩, ফারহান ৫/৬) চড়ে ঘোষের হাট লঞ্চ টার্মিনাল বা বেতুয়া লঞ্চ টার্মিনাল নামতে হবে।
স্থানীয় পরিবহন: টার্মিনাল থেকে স্থানীয় পরিবহনে (লেগুনা বা মোটরসাইকেল) করে চর কচ্ছপিয়া ঘাট আসতে হবে। সেখান থেকে ট্রলারে বা নৌকায় করে চর কুকরি মুকরি পৌঁছানো যায়।
থাকার ব্যবস্থা
চর কুকরি মুকরিতে থাকার জন্য সরকারি রেস্ট হাউস, বন বিভাগের রেস্ট হাউস এবং কিছু স্থানীয় হোটেল রয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পিং করার সুযোগও আছে।
ভ্রমণের সেরা সময় হলো নভেম্বর থেকে মার্চ মাস, কারণ বর্ষাকালে চরের অনেক অংশই পানিতে ডুবে থাকে।
দৈএনকে/জে, আ