চড়া দামে মাছ-মুরগি-ডিম, দাম বাড়লেও মিলছে না বোতলজাত তেল

রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম এখনো চড়া। বিশেষ করে মাছ, মাংস, মুরগি ও ডিমের বাড়তি দামে অস্বস্তিতে পড়েছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর পরও সরবরাহ-সংকট কাটেনি। ফলে বাড়তি দামের পাশাপাশি তেল না পাওয়ার ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে অনেককে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মুগদা, মানিকনগর, কমলাপুর, খিলগাঁও ও বাসাবো এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফার্মের মুরগির ডিমের এক ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। আগস্টের শুরুতে দাম বাড়ার পর থেকে ডিমের দাম আর আগের অবস্থায় ফেরেনি। এর আগে এক ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হতো।
ব্রয়লার মুরগিও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা বেড়ে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায় উঠেছে। আগে এই মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক মাসের বন্যা, অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত গরমে অনেক খামারে মুরগি মারা গেছে। পরে অনেক খামারি নতুন করে মুরগি পালন শুরু করেননি। এর মধ্যে সাম্প্রতিক লোডশেডিংয়েও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এতে বাজারে মুরগির সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে। মুরগির সংখ্যা কমে যাওয়ায় ডিমের উৎপাদনও কমেছে।
বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) মহাসচিব এম সাফির রহমান বলেন, মুরগি ও ডিমের দাম মূলত জোগান ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সাম্প্রতিক বন্যায় দেশের অসংখ্য লেয়ার খামারি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক খামারির মুরগি ও ডিম বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে বাজারে হঠাৎ জোগানের বড় ঘাটতি তৈরি হওয়ায় দাম বেড়েছে।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। রুই, কাতলা, পাবদা, তেলাপিয়া ও পাঙাশসহ বেশির ভাগ মাছের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। আকারভেদে চাষের পাঙাশ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের রুইয়ের দাম ৪০০ টাকা এবং কাতলা ৪২০ টাকা কেজি।
মাংসের বাজারেও দাম কমেনি। রাজধানীতে গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য নিয়মিত মাছ-মাংস কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ-সংকটও দেখা দিয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে। ফলে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা থেকে বেড়ে ২০৪ টাকা হয়েছে।
তবে দাম বাড়ানোর পরও রাজধানীর অনেক খুচরা দোকানে পর্যাপ্ত বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অর্ডার দেওয়ার পরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
মানিকনগর পুকুরপাড়ের মুদি দোকানি রফিকুল ইসলাম বলেন, অর্ডার দেওয়ার পরও কোম্পানি থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে তার দোকানে কোনো বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। ফলে বোতলজাত তেল কিনতে এসে অনেক ক্রেতাকেই খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে খোলা তেল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে বাজারে কিছু পণ্যের দামে তুলনামূলক স্বস্তি থাকলেও মাছ, মুরগি, ডিম ও তেলের বাড়তি দাম ক্রেতাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। অনেকেই প্রয়োজনীয় পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্যতালিকায় মাছ, মাংস ও ডিমের মতো পুষ্টিকর খাবারের পরিমাণ কমে যাচ্ছে।