নাবালেগ সন্তানের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় শরিয়তের নিয়ম

প্রশ্ন :- কিছুদিন আগে আমাদের এক প্রতিবেশী সড়ক দুর্ঘটনায় জীবন হারান। তিনি মৃত্যুকালে বাবা, মা, স্ত্রী, এক ছেলে এবং এক ভাই রেখে যান। তার ছেলের বয়স মাত্র এক বছর সাত মাস।
এমতাবস্থায় হুজুরের কাছে আমাদের জানার বিষয় হলো—
১. শরিয়তের দৃষ্টিতে ওই নাবালেগ সন্তানের সম্পদের অভিভাবক কে হবে?
২. ওই সন্তানের লালন-পালনের কে বেশি হকদার হবে?
উত্তর
১. প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তি যদি শিশু-সন্তানের সহায়-সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ ও হেফাজতের দায়-দায়িত্ব গ্রহণের জন্য বিশেষ কাউকে (ওসি) অভিভাবক হিসেবে নিযুক্ত না করে গিয়ে থাকেন, তাহলে এ ক্ষেত্রে যেহেতু শিশুটির দাদা জীবিত আছেন, তাই তিনি তার সম্পদের অভিভাবক (দায়িত্বশীল) হবেন।
অভিভাবক ওসি হোক বা দাদা তাদের দায়িত্ব হলো— তার সম্পদের হেফাজত করা; অপব্যয়-অপচয় রোধ করা। শিশুর উপকারে আসে না– এমন কোনো কাজে ব্যবহার হতে না দেওয়া।
–আলমুহীতুল বুরহানী ১৯/৪৩৬; জামিউ আহকামিস সিগার ১/২৯০; জামিউল ফুসূলাইন ২/১৫; জামিউর রুমূয ৪/৬৭৩; রদ্দুল মুহতার ৬/১৭৪
২. প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে শিশুটির লালন-পালনের হকদার তার মা। অবশ্য মায়ের যদি শিশুটির মাহরাম নয় এমন কারো সাথে বিবাহ হয়, তাহলে তখন লালন-পালনের এ অধিকার মায়ের থাকবে না।
তখন এ অধিকার লাভ করবে শিশুটির নানি। অতঃপর তার দাদি। তাদের পর তার খালা, অতঃপর তার ফুফু।
* >الجامع الصغير< ص ২৩৭ : والأم أحق بالولد، ثم الجدة التي من قبل الأم، ثم الجدة من قبل الأب، ثم الخالة، ثم العمة.
–বাদায়েউস সানায়ে ৩/৪৫৬-৪৬০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/৭২; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৬৬
দৈএনকে/জে, আ