কোরআন-হাদিসে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার গুরুত্ব

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা মানে হলো রক্ত ও বৈবাহিক সূত্রে যাদের সাথে সম্পর্ক আছে, তাদের খোঁজ-খবর রাখা, সদাচরণ করা, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করা। ইসলামে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোরআনে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার নির্দেশনা আছে এবং যারা সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের নিন্দা করা হয়েছে।
১. মুমিনদের বৈশিষ্ট্য
মুমিনদের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা।
আল্লাহ বলেন, যারা সম্পর্ক অটুট রাখে, তাদের রবকে ভয় করে এবং মন্দের আশঙ্কা করে। (সুরা রা’দ: ২১)
২. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা পাপ
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা কাফের ও পাপাচারীদের কাজ।
আল্লাহ বলেন, যারা সম্পর্ক ভঙ্গ করে এবং ফাসাদ সৃষ্টি করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে শাস্তি নির্ধারিত। (সুরা বাকারা: ২৭, সুরা মুহাম্মাদ: ২২-২৩, সুরা রা’দ: ২৫)
৩. অভাবগ্রস্ত আত্মীয়দের সাহায্য
ক্ষমতাবান ব্যক্তি যদি আত্মীয়দের মধ্যে অভাবী দেখেন, তবে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং সাহায্য করা বাধ্যতামূলক।
কোরআনে আল্লাহ বলেন, আত্মীয়দের হক প্রদান ও মিসকিন ও মুসাফিরকে সাহায্য করা মুমিনদের জন্য উত্তম। (সুরা রুম: ৩৭)
আত্মীয়দের জাকাত দেওয়ার মাধ্যমে সদকা ও আত্মীয়তার হক একসাথে আদায় করা যায়। (মুসনাদে আহমাদ: ১৫৭৯৪, সুনানে নাসাঈ: ২৫৮২)
৪. প্রতিদান ও শাস্তি শুরু হয় দুনিয়াতেই
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার প্রতিদান দুনিয়াতেও পাওয়া যায়: রিজিক বৃদ্ধি, প্রভাব ও আয়ু বৃদ্ধি। (সহিহ বুখারি: ২০৬৭, ৫৯৮৬, সহিহ মুসলিম: ৬৬৮৭-৬৬৮৮)
সম্পর্ক ছিন্ন করলে শাস্তিও দুনিয়া থেকে শুরু হয়। আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে শাস্তি দেন। (সুনানে তিরমিজি: ২৫১১)