শেখ হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে জেরায় নতুন মোড়

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৫–এ বিচারক মেহেদী হাসান শেখ হাসিনাসহ ২৩ জন আসামির বিরুদ্ধে করা পৃথক তিন মামলার দুটিতে তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০১০ সালে মামলাগুলো দায়ের করে, যেখানে অভিযোগ করা হয়— আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের ও স্বজনদের নামে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন। তদন্ত শেষে ২০১২ সালে দুদক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা মামলার প্রাথমিক নথি উপস্থাপন করেন এবং রাজউকের অভ্যন্তরীণ নথি থেকে প্লট বরাদ্দের তথ্য তুলে ধরেন। পরবর্তী শুনানির জন্য আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আগামী ২০ নভেম্বর।
আইনজীবীরা জানান, মামলাগুলোর অগ্রগতি নিয়মিতভাবে হচ্ছে এবং আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ (সোমবার) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে দুই মামলায় তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য ও জেরার জন্য আগামী ৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন।
এর মধ্যে শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। এদিন তার সাক্ষ্য শেষে আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের পক্ষে অ্যাডভোকেট শাহিনুর ইসলাম তাকে জেরা করেন। তবে জেরা শেষ না হওয়ায় আগামী ৬ নভেম্বর পরবর্তী জেরার জন্য দিন ধার্য করা হয়। এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত ২৯ সাক্ষীর সবাই আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য দেন রাজউকের গুলশান জোনের সাবেক পরিচালক তানজিল্লুর রহমান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। এ মামলায় আসামি খুরশীদের পক্ষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস এম রাশেদুল হাসানকে জেরা করেন তার আইনজীবী। তবে জেরা শেষ না হওয়ায় আগামী ৬ নভেম্বর পরবর্তী জেরার জন্য দিন ধার্য করা হয়। এই মামলায় ২৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
তবে শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে করা আরেক মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়ার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৬ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। মামলাটিতে চার্জশিটভুক্ত ২৩ জনের মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেছেন আদালত।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর খান মো. মইনুল হাসান লিপন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অপরদিকে বাকি ৩ মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এসব মামলার একটিতে শেখ রেহানা, টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ আসামি ১৭ জন। আরেকটিতে আজমিনা, টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৮ জন এবং অপর মামলায় রাদওয়ান, টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে পৃথক ৬ মামলা করে দুদক। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেককে আসামি করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। অযোগ্য হলেও তারা পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নেন।