সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ডিএমপিতে এসি পদমর্যাদার ৩ কর্মকর্তার পদায়ন, একজনের বদলি বাতিল ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল এনসিপি অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০ পারসেন্ট দিয়েন: আসিফ মাহমুদ ময়মনসিংহ মেডিকেলে ডেঙ্গুর উপসর্গে আরও দুজনের মৃত্যু ফিট শরীরের জন্য প্রতিদিনের ৫ সহজ অভ্যাস মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত বেশ কয়েকজন ভবিষ্যৎমুখী আইন প্রণয়নই বাংলাদেশের অগ্রগতির চাবিকাঠি: মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদ ছাত্রদলের ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৪৭ সাতকানিয়ায় বাসের ধাক্কায় আহত স্কুলছাত্রীর মৃত্যু
  • ঐকমত্য কমিশন জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: মির্জা ফখরুল

    ঐকমত্য কমিশন জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: মির্জা ফখরুল
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে সেই দায় প্রধান উপদেষ্টাকেই বহন করতে হবে। ঐকমত্য কমিশন জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

    বুধবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বিচার-সংস্কার-নির্বাচন, অন্তর্বর্তী আমলে বাংলাদেশ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধান উপদেষ্টাকে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, সত্যিকার অর্থে যেটুকু সংস্কার দরকার, সেই সংস্কার সম্পন্ন করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিন। জনগণ সেই নির্বাচনের ফল মেনে নেবে। কিন্তু যদি সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হয়, তার দায়ভার প্রধান উপদেষ্টাকেই বহন করতে হবে।

    তিনি বলেন, অবাক হয়ে আমরা লক্ষ করলাম—কালকে যখন ঐকমত্য কমিশন প্রতিবেদন প্রকাশ করলো, নোট অব ডিসেন্টগুলো নেই! পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে, ইগনোর করা হয়েছে। এটা তো ঐকমত্য হতে পারে না। তাহলে ঐকমত্য কমিশনটা করা হয়েছিল কেন? এই ঐকমত্য কমিশন—এটা আমি বলবো, জনগণের সঙ্গে একটা প্রতারণা। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও এটা প্রতারণা।

    মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল ঐকমত্য কমিশন প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা সেখানে স্বাক্ষরও করেছেন, তিনি এটার চেয়ারম্যান। অবাক হয়ে আমরা লক্ষ করেছি, আমরা যেসব বিষয়ে একমত ছিলাম না, সেসব ক্ষেত্রে আমরা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিলাম। সেই নোটগুলো লিপিবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু গতকাল যখন তারা প্রতিবেদন প্রকাশ করলেন, সেই নোটগুলো পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা ঐকমত্য নয়, এটা প্রতারণা।

    তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে এই বিষয়গুলো সংশোধন করতে হবে। অন্যথায় এটি ঐক্যের বিপরীতে যাবে।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, একটা সত্যিকার গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশের সংকটগুলোর সমাধান সম্ভব। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের যে পার্লামেন্ট গঠিত হবে, সেই পার্লামেন্টই সংবিধানের মধ্যদিয়ে সংস্কারের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবে। আমরা সে কারণে ৫ আগস্টের পরেই নির্বাচনের কথা বলেছিলাম। তখন অনেকে বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতা চায় বলেই তাড়াহুড়ো করছে। আজ প্রমাণ হচ্ছে, নির্বাচন যত দেরি হচ্ছে, ততই সেই শক্তিগুলো শক্তিশালী হচ্ছে যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।

    মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা জাতি হিসেবে ঠিক কোথায় যেতে চাই—সেটা আমরা সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারছি কি না, সেটা এখন বড় প্রশ্ন। এত বড় একটা অভ্যুত্থান, এত ত্যাগ, এত প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত পরিবর্তন—আমরা কি সেটাকে জাতির কল্যাণে কাজে লাগাতে পারছি? দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখছি, যতই দিন যাচ্ছে আমরা ততই বিভক্ত হয়ে পড়ছি। বিভক্তির এই প্রক্রিয়া কারা করছে, কেন করছে—এটা আমাদের বুঝতে হবে।

    তিনি বলেন, আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবলভাবে পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি করে প্রতিপক্ষকে আঘাত করার প্রবণতা চলছে। অথচ এই সময়টা আমাদের ঐক্যের সময়। ন্যূনতম বিষয়গুলোতে ঐকমত্যে পৌঁছে একটা জাতীয় পথনির্দেশ তৈরি করার সময় এটা। কিন্তু সেই জায়গায় বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে।

    বিএনপি সংস্কার চায় না—এমন প্রচারণাকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির জন্মই হয়েছে সংস্কারের মধ্যদিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের পর একদলীয় শাসনের পরিবর্তন ঘটিয়ে ৭৫-পরবর্তী বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল বিএনপি। অথচ কনসাসলি একটা প্রপাগান্ডা চালানো হয়েছে যে বিএনপি সংস্কারবিরোধী—এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, এত বড় অভ্যুত্থানকে আমরা জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারছি না। যতই দিন যাচ্ছে আমরা ততই বিভক্ত হচ্ছি। কারা এই বিভক্তি তৈরি করছে, তা আমাদের বুঝতে হবে।

    অনুষ্ঠানে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ‘চর্চা ডটকম’-এর সম্পাদক সোহরাব হাসানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বুদ্ধিজীবী উপস্থিত ছিলেন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন