সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ডিএমপিতে এসি পদমর্যাদার ৩ কর্মকর্তার পদায়ন, একজনের বদলি বাতিল ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল এনসিপি অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০ পারসেন্ট দিয়েন: আসিফ মাহমুদ ময়মনসিংহ মেডিকেলে ডেঙ্গুর উপসর্গে আরও দুজনের মৃত্যু ফিট শরীরের জন্য প্রতিদিনের ৫ সহজ অভ্যাস মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত বেশ কয়েকজন ভবিষ্যৎমুখী আইন প্রণয়নই বাংলাদেশের অগ্রগতির চাবিকাঠি: মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদ ছাত্রদলের ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৪৭ সাতকানিয়ায় বাসের ধাক্কায় আহত স্কুলছাত্রীর মৃত্যু
  • অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০ পারসেন্ট দিয়েন: আসিফ মাহমুদ

    অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০ পারসেন্ট দিয়েন: আসিফ মাহমুদ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিয়োগ ও পদায়নে অর্থ লেনদেন, উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডার থেকে কমিশন গ্রহণ, ঘুষ এবং বিদেশে অর্থপাচারসহ নানা অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নতুন করে পাওয়া প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগও আগের অনুসন্ধানের নথির সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

    দুদক জানায়, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে করা নতুন আবেদনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ, দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়ন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার টেন্ডার এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।

    আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬ জেলায় ডিসি পদায়নের ক্ষেত্রে জনপ্রতি দুই কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে বলে জানান দুদকের এই কর্মকর্তা।

    একই আবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময় আসিফ মাহমুদ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে।

    এ ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

    যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতেও কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।

    আবেদনে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগের বিনিময়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে নিয়োগে ৫২ কোটি টাকা ঘুষ এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে আব্দুল লতিফ খানকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগে ৬৫ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

    আসিফ মাহমুদের জীবনযাপন ও বিদেশে সম্পদ অর্জন নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে। আবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি নিয়মিত পাঁচ তারকা হোটেলে যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস ও দামি গাড়ি ব্যবহার করতেন এবং হেলিকপ্টারে ভ্রমণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করেছেন।

    এ ছাড়া দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের একটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার অভিযোগও করা হয়েছে।

    আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করে সেখানে সম্পদ কেনা ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। দুই বোনজামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমেও বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ করা হয়েছে।

    তবে এসব অর্থপাচারের অঙ্ক ও বিদেশে সম্পদ অর্জনসংক্রান্ত দাবিগুলো আবেদনকারীর অভিযোগ বলে জানিয়েছে দুদক। অনুসন্ধানের মাধ্যমে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

    আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টিও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই প্রকল্পের বরাদ্দ ও অর্থ গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে।

    এ ছাড়া আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন ও তার এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ঠিকাদারদের একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ঘুষ লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

    এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। রোববার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি লেখেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০ পারসেন্ট দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’

    সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত তার ওই পোস্টে ৮০ হাজারের বেশি রি-অ্যাকশন পড়ে। এতে ৭ হাজারের বেশি মন্তব্য এবং ২ হাজারের বেশি শেয়ার হয়েছে।

    দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানান, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে আগে থেকেই অনুসন্ধান চলছে। নতুন করে পাওয়া অভিযোগটি আগের নথির সঙ্গে যুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে। এরপর বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

    ওই বক্তব্যের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পরে গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি দুদকের কাছে নোটিশ পাঠান। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন