আল্লাহর প্রিয়দের জীবনে থাকে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য

মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে 'আশরাফুল মাখলুকাত' (সৃষ্টির সেরা জীব) হিসেবে সৃষ্টি করে তাঁর ভালোবাসার প্রমাণ দিয়েছেন। সকল বান্দার প্রতি তাঁর দয়া অফুরন্ত; গুনাহগার বান্দাকেও তিনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। কিন্তু একজন মুমিন কীভাবে বুঝবেন যে আল্লাহ তাঁকে ভালোবাসেন?
প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের অন্তরের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন করা, কারণ আল্লাহর ভালোবাসা ছাড়া পরকালে সফল হওয়া অসম্ভব। ইবাদত, দোয়া এবং ঈমানি আমলের মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। ইসলামী শরীয়তে এমন কিছু সুস্পষ্ট আলামত বা নিদর্শন রয়েছে, যা দেখে একজন বান্দা আল্লাহর ভালোবাসা অনুভব করতে পারেন।
চলুন, জেনে নেই সেই চারটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত:
১. মানুষ তাকে ভালোবাসবে
যখন আল্লাহ তাআলা কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তাঁর প্রতি মানুষের হৃদয়েও ভালোবাসা তৈরি হয়। এটি আল্লাহর ভালোবাসার একটি অন্যতম বাহ্যিক নিদর্শন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন আল্লাহ তাআলা কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিব্রাইল (আ.)-কে ডেকে বলেন, 'আমি অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসি, তুমিও তাকে ভালোবাসো।' অতঃপর জিব্রাইল (আ.) তাকে ভালোবাসতে থাকেন এবং আকাশে ঘোষণা করে দেন: 'আল্লাহ তাআলা অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসেন, তোমরাও তাকে ভালোবাসো।' তখন আকাশের অধিবাসীরাও তাকে ভালোবাসতে শুরু করেন। অতঃপর সেই বান্দার জন্য জমিনেও স্বীকৃতি স্থাপন করা হয়।"
২. দুনিয়ামুখিতা থাকবে না
আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন, তার মধ্যে পথ-পদবী, অর্থ-সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি—এসব দুনিয়াবী কোনো কিছুতে চরম আকর্ষণ থাকবে না। আল্লাহ তাআলা কিছু বান্দাকে ভালোবেসে এসব থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন। চাইলেও তাকে এসব কিছু দেওয়া হয় না।
মূলত, আল্লাহ তাআলা সেই বান্দাকে পরিকল্পিতভাবে দুনিয়াবী ফায়দা থেকে সরিয়ে রাখেন, যাতে দুনিয়ার মোহ তাঁকে পরকালের পথ থেকে বিচ্যুত করতে না পারে।
৩. বিপদ-আপদ লেগে থাকবে (এবং তাতে সন্তুষ্ট থাকবে)
বিপদ-মুসিবতে সন্তুষ্ট চিত্তে থাকেন এমন বান্দাকে আল্লাহ তাআলা ভালোবাসেন। কোরআনের কোথাও বলা হয়নি, আল্লাহ তাআলা ফেরাউন কিংবা নমরুদের পরীক্ষা নিয়েছেন। বরং তিনি তাঁর ভালোবাসার বান্দাদেরই পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। যেমন, আল্লাহ ইব্রাহিম (আ.)-এর অনেক পরীক্ষা নিয়েছেন।
তাই বহু ঈমানদারের জীবনে দুঃখ, কষ্ট ও বিপদাপদ লেগেই থাকে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "মুমিনের জন্য দুনিয়া কারাগার সদৃশ ও কাফিরের জন্য জান্নাত সদৃশ।" এই বিপদ-আপদের মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার গুনাহ মোচন করেন এবং পরকালে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।
৪. দ্বীনি জ্ঞানের অধিকারী এবং নেক আমলের অবারিত সুযোগ
আল্লাহ তাআলার ভালোবাসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হলো—আল্লাহ ওই বান্দাকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করবেন এবং সে অনুযায়ী বেশি বেশি নেক আমল করার সুযোগ দান করবেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন। আল্লাহই দানকারী, আর আমি বন্টনকারী।"
অর্থাৎ, আল্লাহ যখন কাউকে ভালোবাসেন, তখন তাঁর হৃদয়ে হেদায়েতের আলো দান করেন এবং নেক আমলের পথ সহজ করে দেন। ইবাদত, দোয়া এবং ঈমানি আমলের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন, আর আল্লাহ তাঁকে সেই পথে চলতে সাহায্য করেন।
দৈএনকে/জে .আ