শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • রোববার নারায়ণগঞ্জের ৫ এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না মার্কিন হামলাকে শান্তিচুক্তির লঙ্ঘন বলছে ইরান আইসিসিকে ১৪ পাতার চিঠিতে কী লিখেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল? ফেসবুক পোস্টে রহস্যময় বার্তা দিলেন মাহফুজ আলম এনআইডি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা, ১৫ বছর পর নবায়ন বাধ্যতামূলক! হরমুজে ট্যাংকারে হামলার পর নতুন করে বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭০৮ ২০২৮ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া-চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য বন্ধু: শফিকুর রহমান দ্বিপাক্ষিক সফরে দেশ ও জনগণের স্বার্থই ছিল অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী
  • নামকরণের সময় এ ধরনের ভুল এড়াতে হবে

    নামকরণের সময় এ ধরনের ভুল এড়াতে হবে
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মানুষের জীবনে কিছু জিনিস এমন আছে, যার প্রভাব সে প্রতিদিন অনুভব করে, তবে প্রায়ই তা গুরুত্ব সহকারে ভাবেনা। এর মধ্যে একটি হলো নিজের নাম। প্রতিদিন, প্রতিটি মুহূর্তে মানুষ তার নাম শুনে এবং সেই নামে সাড়া দেয়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এই নামই তাকে পরিচিত করে তোলে। এমনকি মৃত্যুর পরও মানুষকে তার নামেই স্মরণ করা হয়।

    আর শান্তি ও মানবতার ধর্ম ইসলামে নামের গুরুত্ব শুধু সামাজিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আখিরাতের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। হাদিসে বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন মানুষকে তার নাম ও পিতার নাম ধরে ডাকা হবে (আবু দাউদ)। ফলে, শিশুর নামকরণ কোনো সাধারণ বিষয় নয়; বরং এটি একটি ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব।

    আধুনিক সময়ে অনেকেই না বুঝে বা ভুল ধারণায় এমন কিছু নাম সন্তানের জন্য বেছে নেন, যেগুলো ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়; এমনকি এগুলো কখনো ভয়াবহ বিপদের কারণ হতে পারে।

    বোখারি শরিফের বরাত দিয়ে প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ মামুনুল হক তার নিয়মিত লাইভ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে জানান, প্রসিদ্ধ তাবেয়ি হজরত সাইদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রাহি.) বলেন, আমার দাদা রাসুল (সা.)-এর দরবারে গেলে নবীজি (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করেন, তোমার নাম কী? তিনি বলেন, আমার নাম হাযান (আরবিতে এই নামের অর্থ হলো দুঃখ, কষ্ট, ক্লেশ)। তখন নবীজি (সা.) তাকে বললেন, না তোমার নাম সাহাল (আরবিতে এই নামের অর্থ হলো সহজ-সরল)। কিন্তু হাযান বললেন, আমার বাবা আমার যে নাম রেখেছেন সেই নামটি আমি পরিবর্তন করতে চাই না। তাই এ কথা শুনে নবীজি (সা.) চুপ থাকলেন এবং তার নাম হাযান থেকে গেল।

    এ প্রসঙ্গে হাযানের নাতি সাইদ ইবনুল মুসাইয়্যিব বলেন, তারপর থেকে আমার দাদা, আমার বাবা এবং আমাদের বংশে সেই কষ্ট-ক্লেশের প্রভাব এখন পর্যন্ত রয়ে গেছে।

    মামুনুল হক জানান, মুসলিম শরিফের এক হাদিসে এসেছে, জয়নব বিনতে আবি সালামা বলেন, আমার নাম ছিল বাররা। এই নামের অর্থ হলো একদম পুতপবিত্র। নবীজি (সা.) এ নাম শুনে বললেন, তোমরা নিজেদের পবিত্রতা নিজেরাই বর্ণনা করো না। তোমাদের মধ্যে থেকে কারা আসলে পবিত্র, সেই কথা কেবল আল্লাহই ভালো জানেন।

    এ সময় রাসুলকে (সা.) জিজ্ঞেস করা হলো, তাহলে আমরা এই মেয়ের নাম কী রাখব? উত্তরে তিনি (সা.) বলেন, তার নাম রাখো জয়নব।

    উল্লিখিত হাদিসের আলোকে শায়খ মামুনুল হক বলেন, যেসব নামের অর্থ কষ্ট-ক্লেশ হয় বা যেসব নামের দ্বারা অহংকার কিংবা কোনো অপছন্দনীয় বিষয় ফুটে ওঠে, সেগুলো পরিহার করতে হবে। কারণ, নামের প্রভাব শুধু ব্যক্তি নয়, বরং তার বংশ পর্যন্ত বিস্তার লাভ করতে পারে। তাই সুন্দর অর্থবহ ইসলামি নাম রাখতে হবে।

    নাম রাখার ক্ষেত্রে ভুল করা যাবে না উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, অনেকে সন্তানের নাম আব্দুস সাত্তার বা এ জাতীয় নাম রাখতে চান না। তারা মনে করেন, এরকম নাম রাখলে একটু খেত বা বয়স্ক মনে হয়। তাই তারা আনকমন নাম রাখতে গিয়ে টাল্টু,বল্টু, স্ক্রু ইত্যাদি নাম রাখেন।

    নামের অর্থের প্রভাব ব্যক্তির ওপর পড়ে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আপনি যদি টাল্টু নাম রাখেন, তবে সে টল্টুর মতো লাফাতেই পারে। কাজেই সন্তানের সুন্দর অর্থবহ ইসলামি নাম রাখা পিতা-মাতার কর্তব্য।


    দৈএনকে/জে .আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আরও পড়ুন