শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • দ্বিপাক্ষিক সফরে দেশ ও জনগণের স্বার্থই ছিল অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর শেষে বাবা-মায়ের কবরে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী কৃষি ও খাদ্যে ১.১ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের উদ্যোগ বাংলাদেশের ১৪ ফল এখন জিআই স্বীকৃত, খুলছে নতুন বাজার জীবনের জটিল সমীকরণ নিয়ে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’, প্রকাশ্যে ট্রেলার ১৪ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অগ্রগতি, পদায়ন ও যোগদান নিয়ে বৈঠক রোববার প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের প্রশংসায় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত রোমে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড: একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নিহত জর্ডানের বিপক্ষে মেসিকে নিয়ে আর্জেন্টিনার চমক
  • নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর

    গণতান্ত্রিক মান ও মানবাধিকারের প্রতি অবহেলার লজ্জাজনক চিত্র

    গণতান্ত্রিক মান ও মানবাধিকারের প্রতি অবহেলার লজ্জাজনক চিত্র
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে সফররত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যে বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছেন, তা শুধু স্থানীয় বা সাময়িক সমস্যা নয়; এটি বিশ্বের সামনে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের জন্য চ্যালেঞ্জ তুলে ধরছে। হাজারো মানুষ নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমে গাজায় নিহত হাজার হাজার নিরীহ ফিলিস্তিনির প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। তারা শুধুমাত্র প্রতীকী ব্যানার বহন করেননি, বরং গণহত্যা, অব্যাহত হত্যাযজ্ঞ এবং অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন উত্থাপন করে।

    নেতানিয়াহু যে ভাষণে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সমর্থনকে নিন্দা করেছেন এবং তার বক্তৃতার সময় বহু প্রতিনিধি সভাকক্ষ ত্যাগ করেছেন, তা স্পষ্টভাবে দেখায় যে তিনি আন্তর্জাতিক সংলাপ ও সমঝোতার চেয়ে ক্ষমতা ও সেনা প্রয়োগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। গাজার হাজার মানুষের মৃত্যু এবং শতাধিক লোকের স্থানচ্যুতি একটি মানবিক বিপর্যয়, যা কোনো রাষ্ট্রের স্ব-রক্ষার দাবি দিয়ে সরলভাবে আড়াল করা যায় না।

    ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর তারা আত্মরক্ষার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু নিরীহ জনগণের উপর ভয়ঙ্কর নৃশংসতা এবং অনাহারে ফেলার কৌশলকে কখনও স্বাভাবিক আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে স্বীকার করা যায় না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা যেভাবে এটিকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন, তার মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের দায়িত্বকে বিশ্ব দরবারে সুস্পষ্ট করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রদের বিক্ষোভ দমন ও গ্রেফতারের উদ্যোগ দেখায় যে নেতানিয়াহুর নীতি কেবল ফিলিস্তিনিদের নয়, বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং প্রকাশের স্বাধীনতাকেও হুমকির মধ্যে ফেলে। মানবাধিকার, শান্তি এবং ন্যায়বিচারের জন্য বিশ্ববাসীর দায় হলো শক্তিশালীভাবে নেতানিয়াহুর নৃশংস নীতি ও পদ্ধতিগুলোকে চ্যালেঞ্জ করা।

    নিশ্চয়ই, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত নিরপেক্ষভাবে ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সহমর্মিতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা, এবং ইসরায়েলের কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। নেতানিয়াহুর দমনমূলক নীতি ও আন্তর্জাতিক নৈতিকতার প্রতি অবহেলা প্রমাণ করে যে, শুধু কথায় নয়, কার্যকর পদক্ষেপ এবং নৈতিক অবস্থানেই মানবতার পক্ষে বিশ্বকে দাঁড়াতে হবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন