শেষ মুহুর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা

আকাশে বাতাসে বইছে শরৎ আগমনের বার্তা। আর মাত্র কয়েকদিন বাকি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ শারদীয় দুর্গা উৎসবকে ঘিরে সনাতনীদের ঘরে ঘরে বইছে আগাম আনন্দের সুবাতাস। সারাদেশের ন্যায় পটুয়াখালীর দশমিনায় চলছে পূঁজার শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি। উপজেলার ১৬টি পূঁজা মন্ডপে শেষ মুহুর্তের ব্যস্ত সময় পারকরছেন মৃৎশিল্পীরা। চলতি মাসের ২৮ তারিখ মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচ দিন্যাাপী শারদীয় উৎসব। আর আগামী মাসের ২ তারিখ বিজয় দশমীর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে শারদীয় উৎসব।
উপজেলার বিভিন্ন শারদীয় পূজা মন্ডপ ঘুরে দেখা য়ায়, কারিগররা বাঁশ, খড়, মাটি, ধানের গুঁড়াসহ নানা উপকরণ দিয়ে দেবী দূর্গা, শিব, গনেশ, কার্তিক ল²ী ও সরস্বতী সহ সঙ্গীদের। কারিগররা মাটির কাজ শেষে শুরু করে তাদের নিপুন হাতের রং তুলির কাজ। উপজেলার একাধিক পূঁজা মন্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করেছেন কারিগররা।
এদিকে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ জনকল্যান গীতা আশ্রম মন্ডপে প্রতিমা তৈরি শেষে রং করছেন কারিগর অরুন পাল।
তিনি জানান, ছোট বেলা থেকেই প্রতিমা গড়ার প্রতি আগ্রহ ছিল। শিল্পকলা শেখার জন্য পুর্বপুরুষের সাথে কাজ করেছি এখন নিজেই সব ধরনের প্রতিমা তৈরি করতে পারি। চলতি বছর আমি ৯টা মন্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ রাখি। যাবতীয় খরচ বহন করেও আমার প্রায় ৪ লাখ টাকা আয় হবে। বর্তমানে প্রতিমা তৈরিতেই আমার সংসার পরিচালনা হয়ে আসছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পূঁজা উৎযাপন দশমিনা শাখার সাধারন সম্পাদক ও শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ জনকল্যান গীতা আশ্রম মন্ডপের সভাপতি দেবাশীষ মজুমদার রতন জানান, এ বছর উপজেলার সাত ইউনিয়নে ১৬টি মন্ডপে শারদীয় উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিটি মন্ডপে পুলিশ সদস্য ও আনসার বাহিনী সহ স্বেচ্ছাসেবক পাহারার ব্যবস্থার পাশাপাশি বিএনপি, জামাত ছাত্র অধিকার ও এনসিপি’র অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আমাদের সমন্বয়ের নিদেশনা দিয়ে যাচ্ছে। সরকারি সাহায্যে আমাদের এ উৎসব পরিচালনা করা সম্ভব নয়। সরকার যদি আমাদের এ উৎসবে সাহায্যের মাত্রাটা আরেকটু বাড়িয়ে দেয় তাহলে খুব উপকৃত হবো।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট এনামুল হক রতন বলেন, সনাতনীদের শারদীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনে সার্বিক সহযোগীতা করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠন। আমাদের আশষ্কা পালিয়ে যাওয়া ফেসিস্ট ও তাদের দোসররা কোন মন্ডপে হামলা না করতে পারে সেই জন্য সকলকে তৎপর থাকতে হবে।
এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল আমীল জানান, শারদীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে ১৬টি পূঁজা মন্ডপে থানা পুলিশ, আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছসেবক মোতায়ন থাকছে। আর এ উপজেলায় অধিক ঝুকি একটি, ঝুকি একটি এবং নজরদারীতে একটি মন্ডপ রয়েছে। সব মিলিয়ে পূজা উদযাপনকে ঘিরে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই।