ভারতে পড়ুয়া ৫ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত

ভারতের আসামের শিলচরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এনআইটি) থেকে পাঁচজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা সম্প্রতি ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। এই ঘটনায় কয়েকজন ভারতীয় শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন, যার পর প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এনআইটি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সহিংসতার কারণে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার পরিবেশও ব্যাহত হয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো আচরণ একেবারেই কাম্য নয়।
ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে, ওই পাঁচজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অন্য একদল শিক্ষার্থীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন, যা পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। সংঘর্ষে আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এ ঘটনায় প্রশাসন উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেয়।
ফলে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়, শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়।
শিক্ষা অঙ্গনের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা দুই দেশের শিক্ষা বিনিময় কার্যক্রমের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ভারতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন। তবে এ ধরনের ঘটনা তাদের অবস্থানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ক্যাম্পাস সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, এই পাঁচজন শিক্ষার্থী আইসিসিআর বৃত্তির আওতায় শিলচর এনআইটিতে পড়াশোনা করছিলেন এবং সবাই স্নাতক (অনার্স) তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। সংঘর্ষের সময় তারা রড, ছুরি ও স্ক্রু ড্রাইভার ব্যবহার করে শেষ বর্ষের কয়েকজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালান।
এই সহিংসতায় অন্তত দুজন শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর। আহতদের শিলচর মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলার সময় অভিযুক্ত পাঁচ শিক্ষার্থী মদ্যপ ছিলেন। এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবরে বলা হয়, ক্যাম্পাস কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক তদন্তের পর তাদের দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং দুই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করেছে। তাদের হোস্টেল ত্যাগের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বহিষ্কারের মেয়াদ চলাকালীন তারা ভারতে অবস্থান করতে না পারে, তাই দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উত্তরপূর্ব ভারতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি স্বাভাবিক হলেও কখনো কখনো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। এই ঘটনায় প্রশাসন নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং নিয়মকানুন বজায় রাখার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
এই ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষার পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ভারতের শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কর্তৃপক্ষও সতর্ক হয়ে পড়েছে। শিলচর এনআইটি প্রশাসন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের জন্য পর্যবেক্ষণ এবং সতর্কতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।