নৌকাডুবিতে মায়ের মৃত্যুর পর ভেসে উঠলো মেয়ের মরদেহ

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় নৌকা বাইচ দেখতে গিয়ে নৌকাডুবির ঘটনায় মর্মান্তিক পরিণতি ঘটেছে। নদী পার হয়ে বাড়ি ফেরার পথে খেয়া নৌকা ডুবে মোর্শেদা বেগম (৪৫) নামের এক নারী ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।
নিখোঁজ হয় তার ৮ বছর বয়সী মেয়ে শোভা আক্তার। দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে কামরাবাদ ইউনিয়নের র্যালী ব্রীজের পাশে ঝিনাই নদী থেকে শিশুটির ভেসে থাকা মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, নিহত মোর্শেদা বেগম উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের ধারাবর্ষা গ্রামের আনসার আলীর স্ত্রী। নিহত শোভা আক্তার তার একমাত্র মেয়ে।গত শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) কামরাবাদ ইউনিয়নের সৈয়দপুর ও ধারাবর্ষা এলাকায় দুই দিনব্যাপী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।এই উৎসবে অংশ নিতে মোর্শেদা বেগম ও তার মেয়ে শোভা আক্তারসহ অসংখ্য মানুষ উপস্থিত হন।খেলা শেষে সন্ধ্যায় আনুমানিক ৬টার দিকে মোর্শেদা ও শোভাসহ প্রায় ৩০-৪০ জন যাত্রী নদী পার হয়ে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে ধারাবর্ষা খেয়াঘাটে অবস্থান নেন। কিন্তু খেয়াঘাটে কোনো মাঝি না থাকায় যাত্রীরা নিজেরাই নৌকা চালিয়ে নদী পার হচ্ছিলেন।এ সময় অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাইয়ের কারণে মাঝনদীতে পৌঁছালে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে যায়।
নৌকাডুবির পর স্থানীয়দের সহায়তায় অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও মোর্শেদা বেগম ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং তার মেয়ে শোভা নিখোঁজ হয়।
খবর পেয়ে জামালপুর জেলা ফায়ার সার্ভিস থেকে একটি ডুবুরি দল শনিবার সকাল থেকেই ধারাবর্ষা খেয়াঘাট ও ঝিনাই নদীতে উদ্ধার অভিযান চালায়। অবশেষে ৩০ ঘণ্টা পর রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নদীর র্যালী ব্রীজের পাশে শিশুটির মৃতদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা তা উদ্ধার করেন।এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।একই পরিবারের মা-মেয়ের মৃত্যুতে স্থানীয় জনগণ অত্যন্ত মর্মাহত।