ভোলা উত্তাল, প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ভোলায় নিজ বসত ঘরে মাওলানা আমিনুল হক নোমানী (৪২) নামের এক মাদরাসা শিক্ষককে কূপিয়ে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। এঘটনার জেরে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভোলা। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবীতে আলেম-উলামা ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েছে। রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে নির্মম এ হত্যাকান্ডকে সূদুর প্রসারী মাস্টারপ্ল্যান হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিষয়টি একটি অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে অবিহিত করেছেন তারা।
তথ্যমতে,শনিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ৯টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চরনোয়াবাদ এলাকায় তার নিজ বাসায় তাকে নির্মমভাবে কূপিয়ে জখম করা হয়। ঘটনার পর পরই মূমর্ষবস্থায় রাত ১০টার দিকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আমিনুল হক ভোলা দরুল হাদিস কামিল মাদরাসার হাদিস বিভাগের একজন সূযোগ্য মোহাদ্দিস,সদর উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের জুম্মার নামাজের খতিব ও ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের জেলা শাখার সেক্রেটারী এবং ইসলামী সু-বক্তা ছিলেন। তার পিতার নাম মাওলানা আমিনুল হক। স্ত্রী ও তিন সন্তানের জনক মাওলানা আমিনুল হক নোমানী ছিলেন জেলার সর্বোজন শ্রদ্ধেয় একজন আ-লে-মে দ্বীনি ব্যাক্তি।
এলাকাবাসী ও নিহত মাওলানা আমিনুল হকের বাড়ির দরজার মাদ্রাসার শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ঘটনাকালে তার স্ত্রী-সন্তানরা বাড়িতে ছিলেন না। শনিবার রাত ৯টার দিকে বাসার পাশের মসজিদ থেকে এশার নামাজ পড়ে নিজ গৃহে যান তিনি। এর কিছুক্ষণ পর বাসার পাশের এক ছেলে এসে তাকে জানায়, মাওলানা আমিনুল হকের বাসার ভিতর থেকে চিৎকারের শব্দ আসছে। এরপর সে বাসার গেট বন্ধ পেয়ে টিনের বেড়া সরিয়ে বাসায় গিয়ে দেখেন ঘরের দরজা বাইরে দিয়ে লাগানো। পরে দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে দেখেন আমিনুল হক রক্তাক্ত অবস্থায় ছটপট করছিলেন। এ অবস্থায় আশপাশের লোকজনকে ডেকে তাকে উদ্ধার করে ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরিক্ষা শেষে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার গলায়,বুকে ও পেটে ধাড়ালো অস্ত্রের অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়রা জানান,তিন সন্তানের জনক মাওলানা আমিনুল হক নোমানীর স্ত্রী-সন্তানরা তার শশুর বাড়ীতে ক'দিন আগে বেড়াতে গিয়ে সেখানেই অবস্থান করছিলেন। তথ্যমতে,অনেকদিন যাবৎ পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্ত্রী'র সাথে আমিনুল হকের দাম্পত্য কলহ চলছিল।
এদিকে আমিনুল হকের মৃত্যুর খবরে বিভিন্ন ইসলামিক দলের নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী হাসপাতালে ছুটি আসেন। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে রাত ১১টার দিকে হাসপাতাল চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের সদর রোডের কে-জাহান মার্কেটের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভা করে সমাপ্ত হয়।সভায় থেকে বক্তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছ আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আানার দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন বক্তারা।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ নিহতের বিষয় নিশ্চিত করে জানান, এ হত্যাকান্ডের বিষয়ে আমরা চুলচেরা তদন্ত করছি। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।এদিকে রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা দুইটায় ভোলার সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেন। সেখানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী,বিজেপি,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও হেফাজতে ইসলামী নেতৃবৃন্দসহ জেলার শ্রেনীপেশার লাখো মুসলিম জনতার সমাগম ঘটে। জানাজাপূর্ব এক সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তারা এই বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
আগামীকাল সোমবার ( ৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় কালীনাথ রায়ের বাজারের হাটখোলা জামে মসজিদের সম্মুখ থেকে হত্যাকান্ডের ঘটনায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদসভার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিবাদমিছিলে যোগ দিতে এদিন জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান,আলেম-উলামাগন।