বিয়ের পথে বাধা দূর করবে রুকইয়াহ্ শারইয়াহ্

ইসলামে বিয়ে একটি মহান সুন্নাহ্ এবং আল্লাহ্র পক্ষ থেকে দুনিয়াবী ও আখিরাতের প্রশান্তির অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু অনেক সময় শয়তানি প্রভাব, জিনের কুমন্ত্রণা, হিংসা বা যাদুর কারণে বিবাহের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা দেখা দেয়— যেমন ভালো প্রস্তাব না আসা, বারবার প্রস্তাব ভেঙে যাওয়া, অযৌক্তিক কারণে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া বা দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টি হওয়া ইত্যাদি। এ ধরনের সমস্যার সমাধানে কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে যে দোয়া ও আয়াত পাঠ করা হয়, তাকে বলা হয় রুকইয়াহ্ শারইয়াহ্।
এটি আসলে একটি বৈধ ইলাজ, যেখানে কেবলমাত্র আল্লাহ্র কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা হয় এবং শিরক বা কুফরি কিছুই থাকে না। রুকইয়াহ্র মাধ্যমে আল্লাহ্র রহমত ও সুরক্ষার আশায় বিবাহ সংক্রান্ত বাঁধা দূর করার প্রচেষ্টা করা হয়।
বিয়ে সংক্রান্ত রুকইয়াহ্ শারইয়াহ্ থেকে কিছু প্রমাণিত দোয়া ও কুরআনের আয়াত দিলাম, যেগুলো নিয়মিত আমল করলে ইনশাআল্লাহ উপকার পাওয়া যাবে—
কুরআনের আয়াতসমূহ
সূরা ফুরকান (২৫:৭৪):
- رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
বাংলা অর্থ:
- “হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে আমাদের চোখের ঠান্ডা দান করো এবং আমাদের মুত্তাকিদের নেতা বানাও।”
সূরা আন-নূর (২৪:৩২):
- وَأَنكِحُوا الْأَيَامَىٰ مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ ۚ إِن يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ ۗ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
বাংলা অর্থ:
- “তোমাদের মধ্যে অবিবাহিতদের এবং তোমাদের নেক দাস-দাসীদের বিবাহ দাও। তারা যদি দরিদ্র হয় তবে আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ থেকে তাদের সচ্ছল করে দেবেন।”
আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা ২:২৫৫)
- বিবাহ ও জীবনের সব বাঁধা দূর করতে প্রতিদিন ৩ বার পাঠ করা অত্যন্ত উপকারী।
সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস
- দিনে অন্তত ৩ বার পাঠ করে শরীরের ওপর ফুঁক দিন।
রুকইয়াহ্ দোয়া
বিবাহের সহজতার জন্য দোয়া:
- اللهم يسر لي زوجا (زوجة) صالحا تقر به عيني ويعينني على طاعتك
বাংলা অর্থ:
- “হে আল্লাহ! আমার জন্য এমন নেক জীবনসঙ্গী নির্ধারণ করুন, যার মাধ্যমে আমার চোখ শীতল হবে এবং যিনি আমাকে আপনার আনুগত্যে সাহায্য করবেন।”
সমস্যা ও বাঁধা দূর করার জন্য দোয়া:
- حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
বাংলা অর্থ:
- “আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনি সর্বোত্তম অভিভাবক।”
আমল করার নিয়ম
- উল্লিখিত আয়াতগুলো ও দোয়াগুলো নামাজের পর নিয়মিত পাঠ করুন।
- পানি বা জমজমের পানিতে আয়াতুল কুরসি, সূরা ফাতিহা, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে ফুঁ দিয়ে সেই পানি পান করুন।
- আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখুন এবং হারাম থেকে দূরে থাকুন।
- ধাপে ধাপে রুকইয়াহ্ আমল গাইড
ধাপ ১: নিয়ত ঠিক করুন
- মনে দৃঢ় করুন—শুধু আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইছেন।
- কোনো শিরক, তাবিজ-কবজ বা কুসংস্কার নয়।
ধাপ ২: পরিচ্ছন্নতা ও নামাজ
- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করুন।
- অজু অবস্থায় আমল করা উত্তম।
ধাপ ৩: দৈনিক রুকইয়াহ্ পাঠ
প্রতিদিন ফজর ও এশার নামাজের পর (কমপক্ষে একবার) নিচের ক্রমে পাঠ করুন:
- সূরা ফাতিহা – ৭ বার
- আয়াতুল কুরসি (২:২৫৫) – ১ বার
- সূরা ফুরকান (২৫:৭৪) – ৩ বার
- সূরা আন-নূর (২৪:৩২) – ৩ বার
- সূরা ইখলাস – ৩ বার
- সূরা ফালাক – ৩ বার
- সূরা নাস – ৩ বার
- হাসবুনাল্লাহু ওয়ানি’মাল ওয়াকিল – ৭ বার
- বিবাহ সহজতার দোয়া (উপরেরটা) – অন্তত ৩ বার
ধাপ ৪: পানিতে ফুঁক দিয়ে পান করা
- এক গ্লাস পানি নিন।
- ওপরের দোয়া ও সূরাগুলো পড়ে শেষে পানিতে ফুঁ দিন।
- সেই পানি নিজে পান করুন।
(চাইলে প্রতিদিনের জন্য বোতলে পড়ে নিতে পারেন)
ধাপ ৫: আত্মরক্ষার আমল
- ঘুমানোর আগে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে শরীরের ওপর ফুঁ দিন।
- এতে শয়তানি প্রভাব ও যাদুর প্রভাব থেকে সুরক্ষা মিলবে।
ধাপ ৬: নিয়মিত দোয়া ও ধৈর্য
সবসময় আল্লাহর কাছে বলুন:
“হে আল্লাহ! আমার জন্য নেক জীবনসঙ্গী নির্ধারণ করুন এবং যেকোনো বাঁধা দূর করে দিন।”
ধৈর্য ও তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) রাখুন।
দৈএনকে/জে .আ