মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

প্রেম, আস্থা ও প্রেরণার ২৬ বছর: আওলাদ-নাসিমার অনন্য দাম্পত্য যাত্রা

প্রেম, আস্থা ও প্রেরণার ২৬ বছর: আওলাদ-নাসিমার অনন্য দাম্পত্য যাত্রা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সময় যেন থেমে গিয়েছিল ১৯৯৮ সালের ২০ আগস্টের সন্ধ্যায়। সেদিন একসাথে পথচলার অঙ্গীকার করেছিলেন দুই তরুণ-তরুণী। আজ তাদের জীবনের সেই মহৎ দিনের ২৬তম পূর্ণতা। সাংবাদিক ও কলামিস্ট এস এম আওলাদ হোসেন এবং নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষিকা নাসিমা আক্তার! তাদের দাম্পত্য যাত্রা এখন লক্ষ্মীপুরের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প।

বিয়ের দিনটি আজও তাদের কাছে জীবন্ত। পরিবারের সবার কোলাহল, আত্মীয়স্বজনের হাসি-খুশি, আর নতুন জীবনের প্রথম ধাপের উত্তেজনা সব মিলিয়ে ছিল এক আবেগঘন মুহূর্ত। সেই দিনের কথা স্মরণ করতে গিয়ে আওলাদ হোসেন প্রায়ই বলেন- “কলম আর সত্যের পথে হাঁটার কঠিন যাত্রায় আমি একজন সহযাত্রী পেয়েছিলাম, যে পাশে না থাকলে হয়তো এতদূর আসা সম্ভব হতো না।”

অন্যদিকে নাসিমা আক্তার বলেন-“একজন সাংবাদিকের স্ত্রী হওয়া মানে সংসারে কখনো ব্যস্ততা, কখনো ঝুঁকি, আবার কখনো আনন্দ ভাগাভাগি করা। তবে এটাই আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।”

প্রথম জীবনে অর্থনৈতিক সংকট, কর্মক্ষেত্রের চাপ ও নানা প্রতিকূলতা ছিল। তবুও একে অপরের প্রতি অগাধ আস্থা আর ভালোবাসা তাদের সবকিছু জয় করতে শিখিয়েছে। সন্তান প্রতিপালন, সংসারের দায়িত্ব, কর্মজীবনের চাপ-সবকিছু তারা সমানভাবে ভাগ করে নিয়েছেন।

আওলাদ হোসেনের কলম বহুবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। তিনি লিখেছেন সমাজ পরিবর্তনের গল্প, মানুষের স্বপ্ন-সংগ্রামের কথা। অন্যদিকে নাসিমা আক্তার তার শিক্ষার্থীদের কাছে শুধু শিক্ষক নন, একজন প্রেরণাদায়ী মানুষ। অনেকে আজও তাকে “দ্বিতীয় মা” হিসেবে ডাকেন।

অবসরে তারা সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসেন। ভ্রমণ, পারিবারিক আড্ডা কিংবা নিছক এক কাপ চা-এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই তাদের দাম্পত্য জীবনের সৌন্দর্য।

আজকের এই বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন দৈনিক নতুন কাগজ পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলী,সহকর্মী, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে আসছে শত শত শুভকামনা- যেখানে একটাই কামনা, এই দম্পতির ভালোবাসা যেন আজীবন অটুট থাকে।

এই দম্পতির স্বপ্ন-আগামী দিনে সমাজের জন্য আরও বেশি কাজ করা। সাংবাদিকতার মাধ্যমে সত্য তুলে ধরা আর শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে আলোকিত মানুষ গড়ে তোলা-এই দুই লক্ষ্যকে সামনে নিয়েই তারা ভবিষ্যতের দিনগুলো সাজাতে চান।

২৬ বছরের ভালোবাসা, আস্থা ও সংগ্রামের গল্প এখন শুধু তাদের দুজনের নয়, বরং পুরো প্রজন্মের জন্য এক দৃষ্টান্ত।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ