রেকর্ড রানেও বরিশালের হার

তারকায় ঠাঁসা ফরচুন বরিশালকে পাত্তাই দিলো না খুলনা টাইগার্স। রেকর্ড রান নিয়েও রক্ষা হলো না বরিশালের। তামিম-মুশফিকদের হাসি কেড়ে নিলেন এনামুল হক বিজয়। এভিন লুইস ঝড়ের পর তার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বরিশালকে আসরে প্রথম হার উপহার দিলো খুলনা।
সোমবার চলতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সর্বোচ্চ সংগ্রহ নিয়ে খানিকটা স্বস্তিতেই ছিল ফরচুন বরিশাল। আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে পায় ১৮৭ রানের পুঁজি। জবাবে হেসে-খেলেই লক্ষ্য পাড়ি দেয় বিজয় বাহিনী। ২ ওভার আর ৮ উইকেট হাতে রেখেই তা টপকে যায় খুলনা টাইগার্স।
নামে-ওজনে আসরের সবচেয়ে সমৃদ্ধ দল বরিশাল। দেশী-বিদেশী মিলে অভিজ্ঞতায় ভরপুর একাদশ তাদের। প্রথম ম্যাচে জিতে ভয়ঙ্কর কিছুর আভাস রেখেছিল তারা। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে এসেই খেলো হোচট। খুলনার কাছে থামল তাদের জয়ধারা। বিপরীতে দুই ম্যাচে দুই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে খুলনা।
১৮৭ রানের লক্ষ্যটা কঠিন হতে পারতো খুলনার জন্য। তবে তা হতে দেননি এভিন লুইস। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে লক্ষ্যটাকে সহজ করে নেয় তার দল। শুরু থেকেই ঝড় তুলে আসরের দ্রুততম ফিফটি তুলে নেন লুইস। তবে ফেরেন এরপরই, করেন ২২ বলে ৫৩ রান। তবে তার ইনিংসটা জয়ের পথ দেখায় খুলনাকে।
লুইস ঝড় শুরু থেকে শুরু হলেও তা ভিন্ন মাত্রা পায় শোয়েব মালিকের করা চতুর্থ ওভারে। পাকিস্তানি এই অলরাউন্ডারের তিন নো বল যেন লোভী করে তুলে লুইসকে। ওই ওভারে ১৮ রান নেয়ার পর পরের ওভারে রাকিবুল হাসানকে দেন ২১ রান। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে লুইস ফিরে গেলেও খুলনা পায় ৮৮ রান।
ততক্ষণে হাত খুলতে শুরু করেন অধিনায়ক বিজয়। লুইস ফেরার পর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি। তাকে যোগ্য সহায়তা দেন আফিফ হোসেন। দু’জনের যুগলবন্দীতে আসে ৬১ বলে ৭৫ রান। ১৫ ওভারের পর আফিফ ৩৬ বলে ৪১ করে আউট হলেও ততক্ষণে জয়ের পথ ধরে ফেলেছে খুলনা। তাদের সংগ্রহ তখন ২ উইকেটে ১৫২।
মাঝে এনামুল হক বিজয় অর্ধশতক তুলে নেন ৩৫ বলে। তবে ফিফটি আদায়ের পর তেমন একটা ঝুঁকি নেননি তিনি। তাতেও অবশ্য ক্ষতি হয়নি, চারে নেমে শাইহোপ ১০ বলে ২৭* রানের ইনিংস খেলে দলকে পৌঁছে দেয় জয়ের বন্দরে। ২ ওভার হাতে রেখেই জিতে যায় খুলনা। ম্যাচ সেরা হয়েছেন এনামুল হক বিজয়।
এর আগে, ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেন বরিশালের তিন কাণ্ডারী তামিম, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। রানের দেখা পান সৌম্য সরকারও। তাদের এমন জ্বলে ওঠার দিনে বড় সংগ্রহ পায় বরিশাল।
যদিও প্রথম চার ওভারে বরিশাল ছিল নিষ্প্রভ। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে এই সময়ে মাত্র ১৪ রান তুলে দলটি। হারিয়ে ফেলে ইবরাহিম জাদরানের উইকেট (১১)। তবে এরপরই ঘুরে দাঁড়ায় তারা, সামনে থেকে পথ দেখান অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
সৌম্য সরকারকে নিয়ে ২২ বলে ৪৬ রান যোগ করেন তামিম। ঝড় থামে সৌম্য রান আউটে। ১০ বলে ২২ করে আউট হন দুর্দান্ত খেলতে থাকা সৌম্য। এরপর মুশফিককে সাথে নিয়ে ইনিংসের হাল ধরেন তামিম। যেখানে অধিনায়ককে দর্শককে বানিয়ে ঝড় তুলেন মুশফিক।
এই যুগলবন্দী থামে ৪১ বলে ৫৭ রান তুলে। তামিম আউট হন ৩৩ বলে ৪০ রানে। এরপর দৃশ্যপটে আসেন মাহমুদউল্লাহ। শুরু হয় দুই ভাইরা-ভাইয়ের নান্দনিক প্রদর্শনী। এর মাঝে ফিফটি তুলে নেন মুশফিক, মাত্র ৩৩ বলে পৌঁছান এই মাইলফলকে।
৩৫ বলে ৫৪ রানের যুগলবন্দী থামে মাহমুদউল্লাহ ১৯ বলে ২৭ রান করে আউট হলে। তবে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করে আসেন মুশফিক। ৩৯ বলে ৬৮ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। শোয়েব মালিক করেন ৫* রান।
বরিশালের ইনিংস থামে ৪ উইকেটে ১৮৭ রানে। খুলনার হয়ে একটি করে উইকেট নেন মুকিদুল, নাসুম ও ওশনে থমাস।