সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • পোশাকশিল্পে অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা: জামায়াত আমির নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত নেতৃত্ব জরুরি: রাষ্ট্রপতি সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এলিজা জামান শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা সফল হবে না: মাহদী আমিন মিরপুরে যান চলাচল স্বাভাবিক, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ: ডিএমপি ভাঙচুর-সহিংসতায় বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যাচ্ছে পোশাকের ক্রয়াদেশ অ্যাপলের সিইও হিসেবে প্রথম আয় প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন জন টার্নাস রোদে ব্রণ কমে যাওয়ার অনুভূতি কি আসলে ত্বকের জন্য ক্ষতিকর? মুক্তির আগেই ৯০ কোটি রুপিতে বিক্রি শ্রদ্ধার ‘ইথা’র স্বত্ব ‘সীমান্তের ওপারের ইশারায় দেশ অস্থিতিশীলের চেষ্টা চলছে’: সালাহউদ্দিন
  • কৃষক কার্ডধারীদের মোবাইলে যাবে ৬ ঘণ্টা পরপর আবহাওয়ার পূর্বাভাস

    কৃষক কার্ডধারীদের মোবাইলে যাবে ৬ ঘণ্টা পরপর আবহাওয়ার পূর্বাভাস
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    কৃষক কার্ডধারীদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বাভাবিক সময়ে প্রতি ছয় ঘণ্টা পরপর এবং দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার এসএমএসের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হবে। এর ফলে বৃষ্টি, তাপমাত্রার পরিবর্তন ও প্রতিকূল আবহাওয়ার বিষয়ে আগেভাগেই সতর্ক হতে পারবেন কৃষকেরা।

    কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় এ সুবিধা চালু করা হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের পাশাপাশি কার্ডধারীরা কৃষি উপকরণ সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ, সেচ সুবিধা ও কৃষি বীমাসহ মোট ১০ ধরনের সেবা পাবেন। আগামী চার বছরে দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

    বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন অনেকটাই আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অতিবৃষ্টি, খরা, তাপমাত্রার পরিবর্তন ও ঝড়ের কারণে প্রায়ই ফসলের ক্ষতি হয়। এ অবস্থায় সময়মতো আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেলে কৃষকেরা চাষাবাদ, সেচ, সার প্রয়োগ, বালাইনাশক ব্যবহার ও ফসল সংগ্রহের বিষয়ে আগাম সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

    যেমন, ধান কাটার মৌসুমে বৃষ্টির পূর্বাভাস পেলে দ্রুত ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিতে পারবেন কৃষকেরা। আবার বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেচের সিদ্ধান্ত নিয়ে পানি ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। ঝড় বা প্রতিকূল আবহাওয়ার সতর্কবার্তা পেলে ফসল ও কৃষি উপকরণ সুরক্ষায়ও আগাম ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। প্রতিষ্ঠানটি স্বয়ংক্রিয় এসএমএসের মাধ্যমে কৃষক কার্ডধারীদের কাছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পৌঁছে দেবে। ফলে কৃষকদের প্রতিবার আলাদাভাবে আবহাওয়ার তথ্য খুঁজতে হবে না।

    প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা ও সেবা সহজে পৌঁছে দেওয়াই কৃষক কার্ড কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। এ জন্য কৃষকদের ব্যক্তিগত ও কৃষিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কাজ চলছে।

    সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে তথ্য সংগ্রহের কাজ এগিয়েছে। এসব ব্লকে এখন পর্যন্ত ২২ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ডের আওতায় ৯ লাখ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।

    গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ৪৭ জন কৃষি উপকরণ সহায়তার জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

    এর আগে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় আট বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়। এ পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়।

    প্রকল্পের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মো. রাকিবুজ্জামান খান বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও তাঁদের চাহিদা নিরূপণের মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়নে সহায়তা দেওয়ার কাজ চলছে। নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি হলে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সহজ ও কার্যকর করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। এ জন্য তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা ও কার্ড বিতরণের কাজ সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষকদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাঠানোর উদ্যোগ সমন্বিত সেবাব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। সময়মতো তথ্য পেলে কৃষকেরা আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় চাষাবাদের পরিকল্পনা সাজাতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

    তিনি আরও বলেন, ফসলের পরিচর্যা, সেচ ব্যবস্থাপনা, সার প্রয়োগ ও ফসল সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সঠিক সময়ে আবহাওয়ার তথ্য পাওয়া কৃষকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও কৃষি ব্লককে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

    কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ (পার্টনার) প্রকল্প।

    সূত্র : বাসস


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন