শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দিতে নতুন আইন সারাদেশের ১১ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেল বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের গল্প ‘অন্যপাতা’ প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে থাকছেন না টোকিওর রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী ফ্রান্সে বিক্ষোভ-সহিংসতা ঠেকাতে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন ইজতেমা ময়দান ব্যবহারে সাদপন্থিদের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার দাবি হেফাজতের রাস্তা-ফুটপাতে অবৈধ দোকান বসলেই মামলা, জব্দ হবে মালামাল: ডিএসসিসি প্রশাসক ঢাকায় ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৬৮৪ এআই প্রশিক্ষণে সরাসরি ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করছে ওপেনএআই ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪টি বই গাজীপুরে পোশাক কারখানার গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৮ ইউনিট
  • ফ্রান্সে বিক্ষোভ-সহিংসতা ঠেকাতে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন

    ফ্রান্সে বিক্ষোভ-সহিংসতা ঠেকাতে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ফ্রান্সে বিক্ষোভ ও সহিংসতা মোকাবিলায় দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বাধীন সরকার। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এবার প্রায় ১০ হাজার বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট শুক্রবার শীর্ষ মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত প্রতিরক্ষা পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গেও তাঁর আলোচনার পরিকল্পনা ছিল। প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠকের পর তিনি আরও কিছু সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন।

    বিক্ষোভ ঘিরে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে জনসমাগম ও গণপরিবহনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্য ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ উগ্র-বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছেন।

    শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানান, শনিবারের নিরাপত্তাব্যবস্থায় পুলিশের এলিট ইউনিট, অশ্বারোহী পুলিশ, হেলিকপ্টার, ড্রোন, সাঁজোয়া যান ও জলকামান ব্যবহার করা হবে।

    তিনি অভিযোগ করেন, উগ্র-বামপন্থী গোষ্ঠীগুলো অনলাইনে তাদের কর্মীদের সরকারি ভবন লক্ষ্য করে হামলার আহ্বান জানাচ্ছে। নুনেজ বলেন, দাঙ্গা, লুটপাট ও সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের প্রতি কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখানো হবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে বলেও জানান তিনি।

    গত সপ্তাহে কয়েকটি সংবেদনশীল এলাকায় জারি করা কারফিউ বহাল রাখার কথাও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    বৃহস্পতিবার ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দেন, শনিবার কেবল শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে। এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অন্যান্য বিষয়ে ক্ষুব্ধ বিভিন্ন গোষ্ঠীও যোগ দিয়েছে।

    গত শনিবার ফ্রান্সজুড়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। তবে কর্মসূচির একপর্যায়ে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিনের সহিংসতার পর থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    রাজধানী প্যারিসে রাতের কারফিউ সোমবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর লিওঁর কেন্দ্রীয় এলাকায় জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শনিবার সেখানে কারফিউ ও গণপরিবহন চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। উপকূলীয় শহর মার্সেইতে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকলেও শুক্রবার কর্তৃপক্ষ বিশেষ বিবেচনায় শ্রমিক ইউনিয়নের একটি মিছিলের অনুমতি দেওয়ার কথা জানায়।

    শুক্রবার প্রথমবারের মতো হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ম্যাক্রোঁ। ‘হাইস্কুল রিনিউয়াল’ নামের শিক্ষার্থী সংগঠনের সভাপতি নাথানায়েল কম্বারি জানান, প্রেসিডেন্ট তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। তবে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় শিক্ষার্থীরা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবের অপেক্ষায় রয়েছে।

    বৈঠক নিয়ে সন্তুষ্ট নন জানিয়ে কম্বারি শিক্ষার্থীদের সংগঠিত হয়ে আন্দোলনের পরিকল্পনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

    বিক্ষোভের স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ

    বিভিন্ন বিধিনিষেধের মধ্যেও ফ্রান্সের জাতীয় ছাত্র ইউনিয়ন ইউএনইএফ শনিবার সমাবেশের ডাক দিয়েছে। তাদের কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে ২০১৮ সালে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের পক্ষ থেকেও প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে পদযাত্রার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ প্যারিসে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকে নির্ধারিত সীমিত পথে বিক্ষোভের অনুমতি দিয়েছে। তবে ইউএনইএফ ও ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সমাবেশের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ইউএনইএফ জানিয়েছে, তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।

    এদিকে রাজধানীর দক্ষিণে অরলিয়ঁ শহরে বিরোধীদলীয় নেত্রী মেরিন ল্য পেনের কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‍্যালি দলীয় কংগ্রেস আয়োজন করছে। এর প্রতিবাদে সেখানে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শহরের কেন্দ্রস্থলে এ ধরনের জমায়েত হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ফরাসি সরকারের সাম্প্রতিক বিধিনিষেধকে কর্তৃত্ববাদী আচরণের দিকে ঝুঁকে পড়ার লক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংস্থাটির মতে, এসব পদক্ষেপ শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকারকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

    ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অস্ত্রের আঘাতে শিক্ষার্থী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের গুরুতর আহত হওয়ার খবরেও উদ্বেগ জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

    ফরাসি শ্রমিক সংগঠন ডেমোক্রেটিক কনফেডারেশন অব লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মারিলিস লিওঁ বলেছেন, জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে এসব নিষেধাজ্ঞা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে।

    ইউএনইএফের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ম্যাক্রোঁ বিক্ষোভের স্বাধীনতা খর্ব করছেন এবং প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধ রক্ষার যে দাবি তিনি করেন, তাঁর পদক্ষেপ তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে প্রধান শহরগুলোতে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। শনিবার ল্যুভর জাদুঘর ও লুই ভুইতোঁ ফাউন্ডেশন বন্ধ থাকবে। প্যারিসে আয়োজিত ‘আর্ট বাসেল’ মেলাও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে, শুক্রবার শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন