লবণাক্ত পানি সুপেয় করতে ইউএইর সঙ্গে যৌথ প্রকল্পের প্রস্তাব

বাংলাদেশের লবণাক্ত পানিকে সুপেয় পানিতে রূপান্তর করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে যৌথভাবে কক্সবাজারে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউএইর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএইর রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী খাসিফ আবদুল্লাহ আলহামুদীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।
বৈঠকে দেশের ভবিষ্যৎ পানি নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় লবণাক্ত পানি পরিশোধন করে সুপেয় পানিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ইউএইর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এ লক্ষ্যে কক্সবাজারে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেন।
বাংলাদেশে ইউএইর বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, বড় অঙ্কের প্রাথমিক বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা বাংলাদেশের জন্য কিছুটা কঠিন হতে পারে। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে এলে এবং বিনিয়োগের অর্থ ধাপে ধাপে পরিশোধের সুযোগ থাকলে তা বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন মন্ত্রী।
রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী খাসিফ আবদুল্লাহ আলহামুদী বলেন, ইউএইর উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। দেশটির শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় দক্ষ জনশক্তি সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এ ছাড়া ইউএই থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা উন্নতমানের লাইমস্টোনের ওপর কর কমিয়ে আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত। জবাবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আশ্বাস দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশে ইউএইর ইকোনমিস্ট অ্যানালিস্ট শাহমিনা ইশা মান্নান, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।