‘ফেরিটিন ফেস’ কি সত্যিই রোগ? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

আয়নায় নিজের ফ্যাকাশে, বিবর্ণ মুখ দেখে কি মনে হচ্ছে শরীরে কোনো সমস্যা হয়েছে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এমন চেহারাকে বলা হচ্ছে ‘ফেরিটিন ফেস’। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি কোনো স্বীকৃত রোগ বা চিকিৎসা-পরিভাষা নয়।
‘ফেরিটিন ফেস’ বলতে সাধারণত ফ্যাকাশে বা নিস্তেজ ত্বক, চোখের নিচে কালো দাগ এবং ক্লান্ত দেখানোর মতো কিছু বৈশিষ্ট্য বোঝানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও এর কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা বা স্বীকৃত মানদণ্ড নেই।
তবে ‘ফেরিটিন’ অবশ্যই চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যবহৃত একটি বাস্তব শব্দ। ফেরিটিন হলো শরীরে আয়রন সংরক্ষণকারী একটি প্রোটিন। রক্তে ফেরিটিনের মাত্রা কম থাকলে তা শরীরে আয়রনের ঘাটতির ইঙ্গিত দিতে পারে।
আয়রনের ঘাটতি দীর্ঘদিন গুরুতর অবস্থায় থেকে চিকিৎসা না করা হলে নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা এবং হৃদ্যন্ত্রের জটিলতা রয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও ‘ফেরিটিন ফেস’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও বা পোস্ট দেখে নিজের আয়রনের ঘাটতি বা রক্তস্বল্পতা নির্ণয় করা ঠিক নয়।
আয়রনের ঘাটতি অনেক ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে মোকাবিলা করা যায়। মাংস ও সবুজ শাকসবজি আয়রনের ভালো উৎস। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে আয়রন ট্যাবলেট বা অন্য চিকিৎসাও লাগতে পারে। শিরায় আয়রন দেওয়ার মতো চিকিৎসা কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলেও এটি নিজে থেকে নেওয়ার বিষয় নয়।
আয়রনের ঘাটতি এবং রক্তস্বল্পতা এক বিষয় নয়। রক্তস্বল্পতা হলে ফ্যাকাশে ও ক্লান্ত দেখানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত অবসাদ, শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) জানিয়েছে, আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে আয়রনের ঘাটতির কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। এর কারণ অতিরিক্ত মাসিকের মতো তুলনামূলক সাধারণ বিষয় থেকে শুরু করে আরও গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যাও হতে পারে।
তাই শুধু চোখের নিচে কালো দাগ বা ফ্যাকাশে দেখানোর কারণে ‘ফেরিটিন ফেস’ হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো দাবি দেখে নিজে নিজে রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা শুরু না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।