রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণে ৭ নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী লঘুচাপের প্রভাবে সাত অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস শেষ ওভারের রোমাঞ্চে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল হার ইউক্রেনের অস্ত্রভাণ্ডারে রুশ ড্রোন হামলা, নিহত ৩৭ জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ৯ দফা দাবি জানাল অল্টারনেটিভস গুমের শিকার হওয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না সালাহউদ্দিন ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নেপাল–তিব্বতে নিহত ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজার রংপুরে চার খুন: পুলিশের তদন্তে ১৯ প্রশ্ন, আসামিদের পক্ষে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত আইনজীবীদের রামসু বাজারে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সেনাবাহিনী, সিন্দুকছড়ি জোনের বিশেষ সহায়তা পরিকল্পনা রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক যুব উৎসবে ১৯১ দেশের ১০ হাজার তরুণ, অংশগ্রহণকারী বাছাই সম্পন্ন
  • গুমের শিকার হওয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না সালাহউদ্দিন

    গুমের শিকার হওয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না সালাহউদ্দিন
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ২০১৫ সালে গুমের শিকার হওয়ার পর ৬১ দিনের বন্দিদশা এবং পরবর্তী সময়ে ভারতের মেঘালয়ে প্রায় ৯ বছরের নির্বাসিত জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে বা তাদের সন্ধান পেতে চাই আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুমের পর দেশে ৬১ দিন তাকে একটি অন্ধকার ও সংকীর্ণ কক্ষে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। উত্তরার একটি বাসা থেকে তাকে তুলে নেওয়ার পর প্রায় ৮ ফুট বাই ৪ ফুট আয়তনের একটি কক্ষে রাখা হয়। সেখানে পানির কল ও শৌচকার্যের জন্য একটি সরু ব্যবস্থা ছাড়া তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা ছিল না।

    তিনি জানান, মেঝেতে একটি কম্বল ও বালিশ ছিল তার শোবার একমাত্র সম্বল। তীব্র গরমের মধ্যেও ঘরটির ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ছিল না। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পরও বন্দিদশায় তিনি চিকিৎসা পাননি বলে দাবি করেন।

    একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে চোখ বেঁধে তাকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলেও জানান তিনি।

    চোখ বাঁধা অবস্থায় মেঘালয়ে

    ভারতে নিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চোখ বাঁধা অবস্থায় তাকে প্রথমে একটি মাইক্রোবাস এবং পরে জিপে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ যাত্রার পর ভোরে একটি পাহাড়ি এলাকায় তাকে নামিয়ে দেওয়া হয়।

    সেখানে বিলবোর্ড দেখে তিনি বুঝতে পারেন, জায়গাটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন সন্দেহে একটি মানসিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    মানসিক হাসপাতালে থাকার সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাকে অন্য রোগীদের সঙ্গে রাখা হতো এবং মানসিক রোগের ওষুধ খাওয়ানো হতো। এমনকি তার চশমাও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। দাড়ি-চুল কেটে দেওয়ায় নিজের পরিচয় হারানোর ভয়ও তৈরি হয়েছিল তার মধ্যে।

    তিনি বলেন, ‘আমি বিদেশের মাটিতে পাগল অবস্থায় মারা যাব, আমার পরিবার হয়তো আমার কবরও দেখতে পারবে না—এমন ভয়ও পেয়েছিলাম।’

    স্ত্রীর ফোনে নিশ্চিত হন পরিবার তার খবর পেয়েছে

    সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, একপর্যায়ে হাসপাতাল থেকে তার স্ত্রীর ফোন আসে। ফোনে স্ত্রীর কান্নার আওয়াজ শুনে তিনি বুঝতে পারেন, পরিবার তার বেঁচে থাকার খবর পেয়েছে।

    পরবর্তী সময়ে তাকে সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে নিজের পরিচয় জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘ইয়েস, আই অ্যাম সালাহউদ্দিন।’

    দীর্ঘ আইনি লড়াই

    ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ফরেনার্স অ্যাক্টে সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর শিলংয়ের নিম্ন আদালত তাকে খালাস দেন। পরে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিল আদালতও তাকে খালাস দেন।

    ভারতে অবস্থানকালেই বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তাকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়।

    ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ প্রায় ৯ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফেরেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হওয়ায় ভারত থেকে আমি দেশে ফিরতে পেরেছি। যারা জুলাই যুদ্ধ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।’

    রাজনীতিতে আসার আগে ছিলেন আমলা

    সালাহউদ্দিন আহমদ ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার একান্ত সচিবের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

    ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জনের পর বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দলীয় আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তিনি। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা থেকে সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করে বিএনপি।

    দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর ভারতের শিলংয়ে তার সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর শুরু হয় তার দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন ও আইনি লড়াই।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আরও পড়ুন