রামসু বাজারে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সেনাবাহিনী, সিন্দুকছড়ি জোনের বিশেষ সহায়তা পরিকল্পনা

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ির গুইমারার রামসু বাজারে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন সিন্দুকছড়ি জোন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে সিন্দুকছড়ি জোনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ সহায়তা পরিকল্পনা। এর আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের জন্য নতুন দোকানঘর নির্মাণ, পুড়ে যাওয়া ঘরের মালিকদের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ এবং শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারকে সম্পূর্ণ দোকানের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পুড়ে যাওয়া দোকানের মালিককে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিতে সেলাই মেশিন এবং অসুস্থ একজন ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে তিন ধাপে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রামসু বাজারের সার্বিক নিরাপত্তা ও রাতের আলোকসজ্জা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎচালিত একটি ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
গৃহীত প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে রামসু বাজার এলাকা পরিদর্শন করেন সিন্দুকছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী নেহাত ফয়সল, পিএসসি, জি।
পরিদর্শনকালে জোন কমান্ডার স্থানীয় হেডম্যান, কারবারি, ভান্তে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।
এ সময় ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশে জোন কমান্ডার বলেন, **“বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা আপনাদের পাশে রয়েছে। খুব দ্রুতই কার্যক্রম শেষ করে এসব ঘর ও সামগ্রী আপনাদের নিকট হস্তান্তর করা হবে।”**
সিন্দুকছড়ি জোনের পক্ষ থেকে নেওয়া এসব উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও সেনাবাহিনীর এমন মানবিক সহায়তার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দোকানঘর নির্মাণ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, আত্মকর্মসংস্থানের উপকরণ, চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষা সহায়তা শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতেও সহায়ক হবে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে স্থানীয় জনগণের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।