মাদক প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন।
শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি উদ্যানে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক একজন ব্যক্তির জীবনকে ধ্বংস করার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে মাদক গ্রহণ করেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতিকে কাজে লাগিয়ে মাদক পাচারকারী চক্র এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এনক্রিপটেড যোগাযোগব্যবহার করে তরুণদের লক্ষ্যবস্তু করছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও আধুনিক ও কার্যকর কৌশল গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণকেই সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে বিলবোর্ড, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রচার এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসেবার মান উন্নয়নেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।