ন্যাশনাল ব্যাংকের টাকা তুলতে আদালতের দ্বারস্থ ৪ আমানতকারী

তারল্য সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির হিসাব থেকে নিজেদের জমা টাকা উত্তোলনের সুযোগ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন চার আমানতকারী। গত বৃহস্পতিবার তারা আদালতে এ আবেদন করেন।
আবেদনকারীরা হলেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের লাকী আক্তার, নাসিমা বেগম ও সাথী বেগম এবং ময়মনসিংহের ভালুকার শামীম আহমেদ।
আবেদনে আমানতকারীরা অভিযোগ করেন, ব্যাংক থেকে নিজেদের হিসাবের টাকা তুলতে না পারায় তারা চরম আর্থিক দুর্ভোগে পড়েছেন। হিসাবের খাতায় টাকা জমা থাকার পরও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে তা ব্যবহার করতে পারছেন না।
ন্যাশনাল ব্যাংক এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তারল্য সংকটে রয়েছে। ঋণ অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দুর্বলতা সামনে আসার পর ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে।
চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের আমানত কমেছে প্রায় ২ হাজার ৯০৭ কোটি টাকা। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, এ সময়ে নতুন আমানত এলেও গ্রাহকদের ব্যাপক অর্থ উত্তোলনের কারণে সংকট পুরোপুরি কাটেনি।
সংকট মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংককে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন আমানতকারীরা তুলনামূলকভাবে সহজে টাকা তুলতে পারলেও দীর্ঘদিনের আমানতকারীদের অর্থ ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হচ্ছে। এতে পুরোনো আমানতকারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেলিতা মেহজাবিনও ব্যাংকটির পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয় বলে জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংকটি চাপের মধ্যে রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের আশ্বাস অনুযায়ী আমানতকারীদের অর্থ হারানোর ঝুঁকি নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ন্যাশনাল ব্যাংকের মতো সংকটে থাকা আরও কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীরাও অর্থ ফেরত পেতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে ন্যাশনাল ব্যাংকের চার আমানতকারীর আদালতে করা আবেদন আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।