বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

ডনের রিমান্ড আবেদনের ওপর আজ শুনানি

ডনের রিমান্ড আবেদনের ওপর আজ শুনানি
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেফতার অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনের ওপর আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান গত ২৪ আগস্ট ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানির জন্য ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করেন আদালত।

শুনানির সময় ডনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

যেসব কারণে রিমান্ড চেয়েছে সিআইডি

রিমান্ড আবেদনে সিআইডি জানিয়েছে, ডনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

তদন্ত সংস্থার দাবি, তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন এমন অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া এবং তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হতে পারে।

এ ছাড়া বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ডন কীভাবে, কেন এবং কার সহযোগিতা বা ইন্ধনে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, সে বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার ডন

গত ৯ আগস্ট ভোরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হন ডন। পরে তাকে ওই দিনই ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।

তখন মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ডনের জামিন আবেদনও নামঞ্জুর হয়।

এবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে সিআইডি। সেই আবেদনের ওপর আজ শুনানি হওয়ার কথা।

যেভাবে হত্যা মামলা হলো

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছিল।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরদিন ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, আশরাফুল হক ডনসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পরের যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া ও তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি নির্ধারিত হবে।

১৯৯৬ সালে মৃত্যু হয় সালমান শাহের

এজাহার অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহকে নিথর অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুরু থেকেই সালমান শাহের পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুকে স্বাভাবিক নয়, হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করা হয়ে আসছে। তার বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে আদালতে আবেদন করেছিলেন।

দীর্ঘ সময় পর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নতুন করে তদন্তের আওতায় আসে। এ মামলায় ডনের রিমান্ড আবেদনের ওপর আজকের শুনানিতে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন