পুরোনো পিক্সেল ফোনেই ডাটা সেন্টার, ই-বর্জ্য কমাতে গুগলের নতুন উদ্যোগ

বাতিল বা পুরোনো স্মার্টফোনকে নতুনভাবে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব ডাটা সেন্টার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান দিয়েগোর (UC San Diego) গবেষকরা। গুগল রিসার্চের সহযোগিতায় পরিচালিত এ প্রকল্পে পুরোনো গুগল পিক্সেল ফোনের মাদারবোর্ড ব্যবহার করে স্বল্প ব্যয়ে কম্পিউটিং ক্লাস্টার তৈরি করা হচ্ছে।
গুগল রিসার্চের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়া পিক্সেল ফোন থেকে ডিসপ্লে, ব্যাটারি, স্পিকার ও বাইরের অংশ খুলে ফেলে কেবল মাদারবোর্ড সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পরে একাধিক মাদারবোর্ড একত্র করে এমন একটি কম্পিউটিং ক্লাস্টার তৈরি করা হচ্ছে, যা ছোট আকারের ডাটা সেন্টারের মতো কাজ করতে সক্ষম।
গবেষকদের মতে, একটি স্মার্টফোনের মোট কার্বন ফুটপ্রিন্টের প্রায় অর্ধেকই মাদারবোর্ড তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এই অংশ পুনর্ব্যবহার করা গেলে নতুন যন্ত্রাংশ উৎপাদনের প্রয়োজন কমবে এবং ই-বর্জ্যও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
পরীক্ষামূলকভাবে ২০টি পিক্সেল ফোনের মাদারবোর্ড দিয়ে তৈরি একটি ক্লাস্টার প্রায় ৭৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট অ্যাপ চালাতে সক্ষম হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রায় ২ হাজার ফোনের মাদারবোর্ড ব্যবহার করে আরও বড় কম্পিউটিং ক্লাস্টার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যা একসঙ্গে প্রায় ১০০টি শ্রেণিকক্ষের ডিজিটাল কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, আধুনিক স্মার্টফোনের প্রসেসিং ক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রেই সার্ভার-মানের কর্মক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। উদাহরণ হিসেবে ২০২৩ সালের গুগল পিক্সেল ফোল্ডের কথা উল্লেখ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষায় এর একক-কোর পারফরম্যান্স আধুনিক কিছু সার্ভারের তুলনায়ও ভালো ফল দিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে প্রতি কয়েক বছর পরপর স্মার্টফোন বদলে ফেলার প্রবণতায় দ্রুত বাড়ছে ই-বর্জ্যের পরিমাণ। ফোনে থাকা তামা, রূপা ও অন্যান্য মূল্যবান উপাদান পুনর্ব্যবহার না করলে নতুন করে খনিজ আহরণের প্রয়োজন পড়ে, যা পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির অনিরাপদ নিষ্পত্তিও পরিবেশের জন্য বড় ঝুঁকি।
এর আগে বিভিন্ন গবেষণায় পুরোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে ই-বর্জ্য কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও, এবার প্রথমবারের মতো বাতিল স্মার্টফোনের মাদারবোর্ড দিয়ে কার্যকর কম্পিউটিং অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ সামনে এলো। গবেষকদের আশা, এই প্রযুক্তি সফল হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা কেন্দ্র এবং স্বল্প ব্যয়ের কম্পিউটিং অবকাঠামো গড়ে তুলতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
সূত্র: এনগ্যাজেট