ভারত-চীনসহ রাশিয়ার জ্বালানি ক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে ট্রাম্প

রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর আরও কঠোর চাপ সৃষ্টি এবং ইরানের বিরুদ্ধে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা জোরদারের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিদলীয় বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। বিলটি অনুমোদনের ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রয়োজন মনে করলে ভারত, চীনসহ রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান ক্রেতা দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবেন।
প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের উদ্যোগে প্রস্তাবিত এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থিত এই বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজন ছিল ৬০ ভোট। শেষ পর্যন্ত বিলটির পক্ষে ৮৬ জন এবং বিপক্ষে ১২ জন সিনেটর ভোট দেন। এতে রিপাবলিকানদের পাশাপাশি অধিকাংশ ডেমোক্র্যাটও সমর্থন জানান।
ক্যাপিটল হিলে প্রয়াত সিনেটর গ্রাহামের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের পর বিলটি পাস হয়। অনুষ্ঠানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও উপস্থিত ছিলেন।
বিলে কী রয়েছে
নতুন আইনে রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রেসিডেন্টকে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিকারক প্রধান দেশগুলোর, বিশেষ করে ভারত ও চীনের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
তবে যেসব দেশ রাশিয়া থেকে তাদের মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে এবং সেই নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে, তাদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ট্রাম্পের অনুরোধে সংশোধিত বিলে ইরানের জ্বালানি ও অস্ত্র খাতে অর্থায়ন ঠেকাতে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে।
কেন এই বিল গুরুত্বপূর্ণ
বিলটির সমর্থকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে রাশিয়ার সক্ষমতা দুর্বল করতে এবং দেশটির জ্বালানি খাতের আয় কমিয়ে আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিল পাসের পর রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের ছয়জন সিনেটর যৌথ বিবৃতিতে বলেন, প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সবচেয়ে উপযুক্ত উপায় হলো এই দ্বিদলীয় উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা।
তবে বিলটির শুল্কসংক্রান্ত বিধান নিয়ে কিছু ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে কেন্দ্রীভূত হলে আমদানি পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্ররাও এর প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।
এদিকে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ চলায় প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন বন্ধ রয়েছে। ফলে আগামী সেপ্টেম্বরের আগে বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে উত্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।