বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • যশোর থেকে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’ জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপর্যয়, উদ্ধারকাজ অব্যাহত রেগুলেটরি দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ, ডিএসইর কাছে জবাব চাইল বিএসইসি বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা ভারত-চীনসহ রাশিয়ার জ্বালানি ক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে ট্রাম্প সরোয়ার আলমগীরের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনে বাধা নেই ‘খুব শিগগিরই ফিরতে পারব’, দেশে ফেরা নিয়ে সাকিবের আশা এনসিপির পদযাত্রায় হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি ছাত্রশিবিরের আজ বিশ্ব বাঘ দিবস বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির নতুন প্রধান ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন
  • গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি

    গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি
    ছবি: এআই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    দেশের জ্বালানি খাত আবারও একটি বড় বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর ফলে শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিএনজি খাত এবং আবাসিক গ্রাহক—সবাই তীব্র সংকটে পড়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্পষ্ট যে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এখনো অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

    বাংলাদেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, অথচ সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২২০ কোটি ঘনফুটের মতো। একটি মাত্র টার্মিনালে দুর্ঘটনার কারণে জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় এত বড় ধাক্কা লাগা দেখিয়ে দিয়েছে যে, আমাদের জ্বালানি অবকাঠামো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। একটি স্থাপনার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং বিকল্প ব্যবস্থার অভাব এই সংকটকে আরও গভীর করেছে।

    সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় চুলায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বহু পরিবার বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনছে অথবা অতিরিক্ত খরচে এলপিজি ও বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছে। অন্যদিকে শিল্পকারখানাগুলো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ সারি ও কম চাপের কারণে পরিবহন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    এ সংকট সাময়িক হলেও এর অন্তর্নিহিত কারণ দীর্ঘদিনের। গত এক দশকে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলনের তুলনায় আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা দ্রুত বেড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি অবকাঠামো কিংবা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে দেশের জ্বালানি সরবরাহ সহজেই বিঘ্নিত হচ্ছে। একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ ঘাটতি ৪৫ শতাংশে পৌঁছে যাওয়া তারই প্রমাণ।

    জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। বাংলাদেশে এখনো নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রাঞ্চলেও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

    শুধু গ্যাস নয়, জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্যও জরুরি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিকল্প জ্বালানির অংশ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে একটি উৎস বা অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বহুমাত্রিক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

    বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান হলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল মেরামত করে চালু করা। তবে দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজন সুস্পষ্ট জ্বালানি কৌশল, যেখানে দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, অবকাঠামোগত নিরাপত্তা, বিকল্প উৎসের উন্নয়ন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো সমান গুরুত্ব পাবে।

    একটি দুর্ঘটনা যদি গোটা দেশের শিল্প, অর্থনীতি ও জনজীবনকে অচল করে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করে, তাহলে সেটি শুধু প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা নয়; বরং পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতারও প্রতিফলন। তাই বর্তমান সংকটকে সতর্কবার্তা হিসেবে নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য টেকসই ও নিরাপদ জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ