বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

বাজেটে সরকার–বিরোধী দলের যৌথ অংশগ্রহণকে ‘ঐতিহাসিক’ বললেন চিফ হুইপ

বাজেটে সরকার–বিরোধী দলের যৌথ অংশগ্রহণকে ‘ঐতিহাসিক’ বললেন চিফ হুইপ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

জাতীয় সংসদের এবারের বাজেট অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণকে দেশের সংসদীয় রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। তাঁর দাবি, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো একটি বাজেট প্রক্রিয়ায় সরকার ও বিরোধী দল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গঠনমূলকভাবে অংশ নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত এটাই প্রথম জাতীয় বাজেট। বাজেট আলোচনায় বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত সময়ের চেয়েও বেশি সময় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত ২৬ শতাংশের পরিবর্তে তারা প্রায় ৩১ শতাংশ সময় বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতাকেও বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সংসদীয় ইতিহাসে এবারই প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা নিজেই স্পিকারের কাছে গিলোটিন প্রস্তাব আনার অনুরোধ করেন এবং বিরোধী দল তাদের ছাঁটাই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়। তাঁর মতে, এটি প্রমাণ করে যে বাজেট নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে এবং দেশ গঠনের প্রশ্নে সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

নূরুল ইসলাম মনি জানান, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সাইকেল পার্টসের ওপর কর কমানোর দাবি ছাড়া উল্লেখযোগ্য অন্য কোনো দাবি তোলা হয়নি। সেই দাবিও প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ে চিফ হুইপ বলেন, সরকার ৬৩টি প্রয়োজনীয় পণ্যে কর বাড়ায়নি। বরং যেসব পণ্যে ৫ শতাংশ কর ছিল, তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে বাজারে এসব পণ্যের দাম কমার প্রত্যাশা সরকারের রয়েছে।

অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে ব্যাপক অর্থপাচার ও দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি চাপে পড়েছে। তাঁর দাবি, প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করা গেলে বাজেট বাস্তবায়নে বড় ধরনের আর্থিক সংকট থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষিতে পানির নিশ্চয়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২৫ কোটি গাছ রোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, কৃষক কার্ড, পরিবার কার্ড, নারীদের জন্য বিশেষ কার্ড, প্রবাসী সেবা এবং স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও উপস্থিত ছিলেন।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন