সোমবার যশোর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, শার্শায় ব্যাপক প্রস্তুতি

আগামীকাল যশোর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই সফরকে ঘিরে জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। সফরে তিনি বাবার স্মৃতিবিজড়িত উলাশী খাল পুনঃখনন এবং ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এটি বর্তমান সরকার গঠনের পর তার প্রথম যশোর সফর।
যশোরের শার্শা উপজেলার উলাসী-যদুনাথপুর এলাকার ঐতিহাসিক এই খালটি প্রায় পাঁচ দশক আগে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষকদের সেচ সুবিধার জন্য খনন করেছিলেন। সময়ের ব্যবধানে খালটি বর্তমানে প্রায় বিলুপ্ত অবস্থায় পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এর পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি ও জীবিকার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
একই দিনে যশোরে বহু প্রতীক্ষিত ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এতে অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা আরও আশা প্রকাশ করেছেন, করোনারি কেয়ার ইউনিটকে পূর্ণাঙ্গ কার্ডিয়াক চিকিৎসা কেন্দ্রে রূপান্তর, যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নয়াপাড়া নৌ বন্দরের নাব্যতা সংকট নিরসন এবং কার্যক্রম পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া যশোরকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীতকরণ, আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণ এবং এমএম কলেজে আধুনিক অডিটোরিয়াম স্থাপনের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে পুরো যশোরজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রধান সড়কগুলোতে ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে শহর, চলছে মঞ্চ প্রস্তুতির কাজ। লাখো মানুষ তাকে একনজর দেখার অপেক্ষায় আছেন।
আয়োজকরা জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন হিসেবে তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
সফরের অংশ হিসেবে তিনি যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করবেন এবং বিকেল তিনটায় জেলা বিএনপির আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে যশোরের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু আশা প্রকাশ করে বলেন, এই সফরের মাধ্যমে যশোরের উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে যশোরের উন্নয়ন কার্যক্রম নতুনভাবে সচল হবে এবং দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।