কিউবার সার্বভৌমত্ব নিয়ে কঠোর বার্তা তিন দেশের

ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপ দেশ কিউবার চলমান অর্থনৈতিক সংকটে পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মেক্সিকো, স্পেন ও ব্রাজিল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অব্যাহত চাপের মধ্যে দেশটির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে তিন দেশ।
গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত বিশ্বের বামপন্থি নেতাদের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কিউবার প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, কিউবার জনগণ বর্তমানে গুরুতর মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
১৯৬০-এর দশকের ঠান্ডা যুদ্ধকালীন সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে কিউবায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত ও হুমকি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনিজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল আমদানি নিষিদ্ধ করে। পাশাপাশি অন্য দেশগুলোকেও কিউবায় তেল সরবরাহ না করার জন্য হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, অন্যথায় নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার সতর্কতা দেওয়া হয়। এর ফলে কিউবায় জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
কিউবার বিরুদ্ধে এই চাপ প্রয়োগকে ভেনিজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে নেওয়া একই ধরনের কৌশলের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। কয়েক মাসের উত্তেজনার পর গত ৩ জানুয়ারি সামরিক অভিযানে মাদুরোকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করা হয়।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেলকে অপসারণের হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শনিবার মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাম, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা কিউবার প্রতি সমর্থন জানিয়ে একযোগে বিবৃতি দেন। তারা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করেন এবং কিউবার সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান জানান।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, কিউবার মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাড়াতে তিন দেশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা—ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা, সার্বভৌম সমতা ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি সম্মান জানাতে আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শেষ হলে আমাদের মনোযোগ কিউবার দিকে যাবে।”
কিউবা বর্তমানে কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে মার্কিন অবরোধের কারণে সৃষ্ট সংকটের অভিযোগ অস্বীকার করে ট্রাম্প প্রশাসন একে দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক দুর্বলতার ফল হিসেবে দাবি করছে।
এদিকে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লবী ঘোষণার ৬৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি বলেন, কিউবা গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে এবং যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের জন্য দেশ প্রস্তুত।
দৈএনকে/জে, আ